বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬

আকাশপানে হারানোশিশু

  • সৈয়দ জাহিদ সরোয়ার
  • ২০২৫-০৭-২৪ ০০:৩১:১২
ফাইল ছবি

আজ সকালটা কেমন যেন কাঁদছিল-
ছেলে না থাকলেও আমি তার ইউনিফর্ম ইস্ত্রি করেছিলাম।
জুতোজোড়া পলিশ করে জানালার ধারে রেখে দিয়েছিলাম,
মনে হচ্ছিল, আজ আবার সে বলবে-
"মা, আজ হাউস প্রতিযোগিতা! দেরি করোনা প্লিজ!"

তবু, কেউ এলো না।

ওর স্কুলব্যাগটা আজও টেবিলের কোণে পড়ে আছে,
খোলা পাতার মাঝে আঁকা অসমাপ্ত রংধনু।
যেন কোনো স্বপ্নই পূর্ণ হলো না।
নোটবুকে শেষ লেখা- “আম্মু, তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।”

কে জানত, সেই সকালই হবে শেষ?
কে জানত, আকাশপানে উড়তে গিয়ে
আগুনের নিচে মিশে যাবে কুড়ি কুড়ি ফুলের মতো শিশু?

প্লেনের ধোঁয়া যখন নেমে এলো খবর হয়ে-
আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি।
চোখে চোখ রেখে বলেছিলাম আয়নার দিকে,
“আমার বাচ্চা তো হাসতে জানে, মরে যেতে না।”

তবু বাস্তব বড় নির্মম,
ছাই হয়ে যাওয়া শরীর ফেরে না কোনো মা’র কোলে।
তার প্রিয় খেলার পুতুল আজ চুপচাপ তাকিয়ে থাকে,
তার পছন্দের চকোলেটগুলো এখন বিষের মতো লাগে।

ঈদ আসবে, ছুটির ঘণ্টা বাজবে, স্কুল খুলবে-
কিন্তু আমার ঘরটা খুলবে না আর কোনো ছোট্ট পায়ে।
জুতো কিনতে নিয়ে যাবো না আর,
ও বলবে না, “লালটা নেবো মা, ওটাই হিরোদের মতো লাগে।”

আর কোনো জন্মদিনে কেক কাটা হবে না,
বন্ধুরা আসবে না দল বেঁধে।
শুধু থাকবে একটা ফাঁকা চেয়ার,
আর এক মায়ের বুক ফাটানো আহাজারি।

তুই ভালো থাকিস ওপারে, মা বললেই তো হাসতি তুই…
আজ তোকে ছুঁতে পারবো না,
তবু প্রতিদিন অফিস ফেরার পথে মনে হবে-
তুই দাঁড়িয়ে আছিস, ছোট্ট একটা ঝাঁপ দিয়ে বলবি,
“মা, আমার জন্যে আজ আইসক্রিম এনেছো?”


এ জাতীয় আরো খবর