ইসরায়েল-ইরান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মাত্র ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের ১২ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অধীনস্থ একটি বিশেষ শাখা, যারা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। ইরনার প্রতিবেদনে বাসিজের একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়, “সত্য ও প্রতিরোধের কণ্ঠরোধ করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদকর্মীদের টার্গেট করেছে শত্রুপক্ষ। ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর একাধিকবার আক্রমণ চালানো হয়েছে।”
এই দাবি অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকরা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হন। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য কাভার করা মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
যদিও স্বাধীন কোনো উৎস থেকে এখনও এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনাটি নিয়ে ইরান জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে। ইসরায়েলি দাবি ছিল, ইরান পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের দোরগোড়ায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই আগাম হামলা প্রয়োজন ছিল।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে, ২৫ জুন মার্কিন কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যদিও যুদ্ধ থেমেছে, রক্তক্ষয়ী সেই সংঘাত রেখে গেছে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত ও জটিলতা।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ৬৬০ জানানো হলেও পরবর্তীতে একাধিকবার তালিকা হালনাগাদ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান সামরিক ও বেসামরিক-উভয় শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্ত।
ইরানি সাংবাদিকদের প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডার্স (RSF), কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে এবং তাদের হত্যাকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা রক্ষা আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম নীতি হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
কীওয়ার্ডস:ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ, ইরানি সাংবাদিক নিহত, বাসিজ বাহিনী, ইরনা সংবাদ, পরমাণু উত্তেজনা, মিডল ইস্ট সংঘাত, ইসরায়েলি বিমান হামলা, ইরান যুদ্ধবিরতি, সাংবাদিক হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, IRGC, Middle East journalist killed