সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচারের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১০ ১২:৩৭:২০
ফাইল ছবি

এক বছর আগের জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অন্যান্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে মামলার মূল বিচারকাজ শুরু হলো। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, নির্যাতন, আটক, জোরপূর্বক গুম এবং জনগণের ওপর সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান তরফদার এবং মিজানুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগ পাঠ করে শোনায়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও নির্বিচার সহিংসতার অভিযোগ ওঠে, যার ফলস্বরূপ বহু নাগরিক নিহত ও নিখোঁজ হন। এই প্রেক্ষাপটে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের শুরুতে মামলা দায়ের করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহায়তায় রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্র তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে মূল বিচারকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত দেয়।
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে আটক অবস্থায় আছেন এবং তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

আগের নির্দেশনাগুলোঃ
১৬ জুন: ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ৭ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
২৪ জুন: নির্ধারিত হয় মামলার পরবর্তী শুনানির দিন।
১ জুলাই: প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করে।
৭ জুলাই: আদেশ ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই বিচার শুরু হওয়াকে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক মোড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন হওয়ায় এখন সাক্ষ্যগ্রহণ,সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং আদালতের বিশ্লেষণী পর্ব শুরু হবে। প্রসিকিউশন বলেছে, তাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিসহ শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।
এই মামলার রায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কীওয়ার্ড:

শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আসাদুজ্জামান খান কামাল বিচার, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, যুদ্ধাপরাধ মামলার আপডেট, বাংলাদেশ রাজনীতি ২০২৫, গণহত্যার বিচার, Sheikh Hasina war crime trial, Bangladesh tribunal news.

 


এ জাতীয় আরো খবর