পাকিস্তানের রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই মুহূর্তে দেশজুড়ে যখন গণতন্ত্র ও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখনই জেলবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতারা মুখ খুললেন। তারা সরাসরি অভিযোগ এনেছেন-পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক চার্টার অব ডেমোক্রেসি ভেঙে দিয়েছে।
জিও নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৭ জুলাই) জেল থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পিটিআইর শীর্ষ নেতারা-শাহ মেহমুদ কুরেশি, ডা. ইয়াসমিন রশিদ, সিনেটর এজাজ চৌধুরী এবং উমর সরফরাজ চীমা বলেন, “ক্ষমতার জন্য অন্ধ লালসায় দুই দল গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। এই পথে বড় বাধা ছিলেন ইমরান খান, তাই তাকে সরিয়ে দিতে তারা একজোট হয়েছে।”
পিটিআই নেতাদের দাবি, পিএমএল-এন ও পিপিপি ২০০৬ সালে বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরিফের স্বাক্ষরিত চুক্তি-যার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছ নির্বাচন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা-তা আজ ভূলুণ্ঠিত।
তারা বলেন, “এই দুই দল ২৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভয়াবহ কারচুপি চালিয়ে জনগণের রায়কে চুরি করেছে।”
এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, আজ পাকিস্তানে এমন এক সরকার ক্ষমতায় এসেছে যারা নিজেদের ‘হাইব্রিড রেজিম’ বলতেও লজ্জা করছে না। এই ‘রেজিম’-এর পক্ষে সরাসরি কথা বলছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
নওয়াজ শরিফের অতীত স্লোগান “ভোট কা ইজ্জত দো” (ভোটের সম্মান ফিরিয়ে দাও) এর দিক ইঙ্গিত করে পিটিআই নেতারা বলেন, “আজ সেই নওয়াজ শরিফ নিজেই তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের প্রতি অন্ধ আনুগত্যে সব যুক্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন। জনগণের ভোট কোথায়, সেটি এখন মুখ্য নয়, মুখ্য হয়ে উঠেছে পারিবারিক উত্তরাধিকার।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিবৃতি শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার ফল নয়, এটি পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথ নিয়েও এক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
দেশটির রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে ‘নতুন গণতান্ত্রিক চুক্তি’ বা ‘সকল পক্ষের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা’র দাবি জোরদার হচ্ছে।
কীওয়ার্ডস:
পাকিস্তান রাজনীতি, পিটিআই নেতা বিবৃতি, চার্টার অব ডেমোক্রেসি, নওয়াজ শরিফ মেয়ে, ২০২৪ পাকিস্তান নির্বাচন, পিপিপি নির্বাচন কারচুপি, ইমরান খান জেল, পাকিস্তান হাইব্রিড সরকার, গণতন্ত্র লঙ্ঘন পাকিস্তান, পাকিস্তান সাম্প্রতিক রাজনীতি