সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

তিন নির্বাচনের অন্ধ সার্টিফিকেট দেওয়া সংস্থাগুলোকে আর আমন্ত্রণ নয়-সিইসি নাসির উদ্দিন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৮ ১৪:৩১:২৩
ছবি সংগৃহিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন এবার বেছে বেছে পর্যবেক্ষক নিয়োগের কৌশল গ্রহণ করছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, “যেসব সংস্থা বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অন্ধভাবে ইতিবাচক সার্টিফিকেট দিয়েছে, তাদের এবার পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।”
ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “পর্যবেক্ষক নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এবার দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সুযোগ দেওয়া হবে।”
ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “আমরা এমন পর্যবেক্ষক চাই যারা প্রকৃত অর্থেই ভোটারদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে, ‘ভালো নির্বাচনের সনদ’ বিলিয়ে বেড়ানোর দল নয়।”
সিইসি আরও জানান, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কমিশনের পরিকল্পনা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি।
“তারিখ ঘোষণা কমিশনের এখতিয়ার। যথাসময়ে তা জানিয়ে দেওয়া হবে,” বলেন নাসির উদ্দিন।
তিনি আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে AI-এর নেতিবাচক ব্যবহারে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং কানাডার কাছ থেকে এই বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা চাওয়া হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সিইসির এই বক্তব্য মূলত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিতর্কিতভাবে ‘ভালো’ রিপোর্ট দেওয়া কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার প্রতি ইঙ্গিতবহ। সেইসব নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে বারবার প্রশ্ন উঠলেও কিছু সংস্থা আগেভাগেই “নির্বাচন সফল হয়েছে” বলে মন্তব্য করেছিল। এবার নির্বাচন কমিশন চাইছে, তাদের বাদ দিয়ে আরও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষকদের দিয়ে পর্যবেক্ষণ করাতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তাহমিদ আজিজ বলেন: “এই পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের জন্য সাহসী এক ঘোষণা। তবে এর বাস্তবায়ন কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয়। দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও পেশাদার পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আদায় কঠিন হবে।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আগ্রহ ও উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ নানা দেশ বারবার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক নীতিমালায় শর্ত ও মানদণ্ড কঠোর করা এক ইতিবাচক বার্তা।

কিওয়ার্ডস:

বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৫, সিইসি নাসির উদ্দিন খবর, পর্যবেক্ষক নীতিমালা বাংলাদেশ, নির্বাচন কমিশন ও পর্যবেক্ষক সংস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, কানাডা বাংলাদেশের নির্বাচন, এআই নির্বাচন নিরাপত্তা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পরিবর্তন


এ জাতীয় আরো খবর