সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের খসড়া চূড়ান্তের পথে: বিতর্ক এড়াতে সংযমী অবস্থানে কমিশন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-০৭ ১৩:৪৮:০০
ছবি সংগৃহিত

জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও সংবেদনশীলতা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত সুপারিশমালা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, "আমরা কোনো দল বা পক্ষকে কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না। আলোচনা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই সুপারিশ প্রণয়ন হচ্ছে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে কমিশন কিছু বিষয় আপাতত বাদ রেখেই এগোচ্ছে।"
সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ম দিনের আলোচনা। উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, আইয়ুব মিয়া, এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলী রীয়াজ জানান, "জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল সংক্রান্ত ইস্যুতে বিভিন্ন দলের ভিন্ন মত থাকায়, আমরা একাধিক বিকল্প প্রস্তাব রাখছি যাতে সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়।"
তিনি আরও বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি ও অকারণ উত্তেজনা এড়াতে কমিশন খুব সচেতনভাবে, সংযমী ভাষা ও কাঠামোতে কাজ করছে। আলোচনার ধারা টিকিয়ে রাখতে অংশগ্রহণকারী সব দলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”
আজকের বৈঠকে আলোচনার জন্য প্রস্তাবিত ছিল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যার মধ্যে রয়েছে:
নির্বাচনি এলাকা পুনর্নির্ধারণ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সম্ভাব্য কাঠামো
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিধান
উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের বিস্তৃতি
জরুরি অবস্থা জারির প্রক্রিয়া
নারী প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি

কমিশনের এই দিনের আলোচনায় অংশ নিয়েছে ৩০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
গণঅধিকার পরিষদ
গণসংহতি আন্দোলন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি

অংশগ্রহণকারী দলগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আলোচনা প্রক্রিয়ার আন্তরিকতার প্রশংসা করেছে এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনের বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ আশা প্রকাশ করেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে, ভিন্নমত, দলীয় অবস্থান এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বাস্তবসম্মত সুপারিশ গঠনই এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কীওয়ার্ডস:

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২০২৫, আলী রীয়াজ বক্তব্য, রাজনৈতিক সংলাপ বাংলাদেশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আলোচনা, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, রাজনৈতিক দল মতামত, রাজনৈতিক ঐকমত্য বাংলাদেশ, ঐকমত্য সংলাপ দ্বিতীয় পর্যায়


এ জাতীয় আরো খবর