বিশ্ব তেলবাজারে চমক সৃষ্টি করে সৌদি আরব, রাশিয়া এবং ওপেক প্লাস জোটের আরও ছয় সদস্য দেশ আগামী আগস্ট মাসে দৈনিক ৫ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ওপেক প্লাস জানিয়েছে, “স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সুস্থ বাজার কাঠামো আমাদের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। কম তেল মজুদের ইঙ্গিতেই এই পদক্ষেপ।”
বিশ্লেষকরা পূর্বে আশা করেছিলেন, জোটটি দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াবে। কিন্তু ৫.৫ লাখ ব্যারেলের মতো উচ্চ বৃদ্ধির ঘোষণা বিশ্ববাজারে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির জর্জ লিওন বলেন, “ওপেক প্লাস বাজারকে বারবার অবাক করছে। এই সিদ্ধান্ত তাদের আগ্রাসী বাজার শেয়ার পুনরুদ্ধার কৌশলকেই তুলে ধরছে। এখন প্রশ্ন হলো-স্বেচ্ছায় প্রতিদিনের ২২ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল হলে, পরবর্তী লক্ষ্য হবে কি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল? এবং এর জন্য বাজার প্রস্তুত তো?”
তিনি যোগ করেন, "মূল্য যদি ৬০ ডলারের ওপরে থাকে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেন-লিবিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাজার চাহিদা সামাল দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।"
এই বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল এবং হরমুজ প্রণালীতে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়। এতে করে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম স্বল্প সময়ের জন্য ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ওপেক প্লাস ২০২২ সাল থেকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন কমিয়ে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের মে মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তখন থেকেই বাজারে দাম কিছুটা কমতে থাকে, যদিও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দামকে ঘিরে রাখছে।
ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলছেন, “ইরাক ও কাজাখস্তান ইতিমধ্যেই তাদের নির্ধারিত কোটার চেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করছে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়ানো সিদ্ধান্ত আরও বৈধতা পাচ্ছে।”
ওপেক প্লাস, তেল উৎপাদন, বিশ্ব তেল বাজার, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী, তেল মূল্য, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, তেল মজুদ, সকালের আলো ডট কম