সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

এভিন কারাগারে ইসরাইলি হামলায় ৭১ জন নিহত: ইরান বলছে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট

  • সকালের আলো আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২৯ ১২:৫৪:১৭
ছবি সংগৃহিত

ইরানের রাজধানী তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ৭১ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের বিচার বিভাগ। নিহতদের মধ্যে কারাবন্দি রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে কারা প্রশাসনের কর্মী, সেনা সদস্য, বন্দিদের স্বজন এবং আশপাশের সাধারণ বাসিন্দারাও রয়েছেন।
রোববার ইরানের বিচার বিভাগ-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর।
আসগর জাহাঙ্গীর বলেন, “এভিন কারাগারে শহীদ হয়েছেন ৭১ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন কারাগার প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্য, কিছু বন্দি, দর্শনার্থী স্বজন এবং পাশ্ববর্তী এলাকার নিরীহ বাসিন্দারা। এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থাপনায় সরাসরি আগ্রাসন।”
জানা গেছে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে এক সপ্তাহব্যাপী চলা বিমানযুদ্ধের শেষে ২৩ জুন মধ্যরাতে এভিন কারাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এটি ইরানের রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য কুখ্যাত একটি কেন্দ্র, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছিল।
হামলার সময় কারাগারে অবস্থান করছিলেন একাধিক বিদেশি নাগরিক, যাঁদের মধ্যে দুইজন ফরাসি নাগরিক -সেসিল কোলার ও জ্যাক প্যারিস -উল্লেখযোগ্য। তারা গত তিন বছর ধরে ইরানে আটক ছিলেন।
এ হামলার পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন: “তেহরানের এভিন কারাগারে হামলার ঘটনায় আমাদের নাগরিক সেসিল কোলার ও জ্যাক প্যারিসের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এ হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ।”
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ছিল ইসরাইলের কৌশলগত বার্তাবাহক। শুধু সামরিক বা পরমাণু স্থাপনা নয়, বরং ইরানের ‘শক্তির প্রতীক’ হিসেবে বিবেচিত এভিন কারাগারে হামলা চালিয়ে তারা দেখাতে চেয়েছে-তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয়ও এখন ভঙ্গুর।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাজিদ হাকিমি বলেন, “এভিন কারাগারে হামলা মানে শুধু একটি ভবনে আগুন নয়, এটি ইরানের বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। এখানে বিদেশি বন্দিও ছিল, তাই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও জোরদার হবে।”
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, হামলার পর পরই বেঁচে থাকা বন্দিদের তেহরান প্রদেশের অন্যান্য কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইরান জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি ও তুরস্কসহ একাধিক দেশ উদ্বেগ জানিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল এই হামলাকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
তেহরান সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলের এই হামলার জবাবে ইরান ‘উপযুক্ত প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা’ নিতে পারে। বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে।

সংক্ষেপেঃ 
ইরানের এভিন কারাগারে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭১।
নিহতদের মধ্যে সেনা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বন্দি ও দর্শনার্থী রয়েছেন।
দুই ফরাসি নাগরিকের জীবন ঝুঁকিতে, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শুরু।
ইরান বলছে, এটি রাজনৈতিক প্রতীকে হামলার শামিল।


এ জাতীয় আরো খবর