শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

পিরোজপুরে রক্তাক্ত রাত: পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়ার জেরে ইউপি সদস্য ও ভাবী খুন, স্ত্রী হাসপাতালে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-২৮ ১৬:৪৩:২১

পিরোজপুরের ইন্দুরকানিতে গভীর রাতে ঘটে গেল এক নির্মম হত্যাকাণ্ড। স্থানীয় চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫০) ও তার ভাবি মৌকলি বেগম (৪৮)। নিহতদের সঙ্গে থাকা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রেহানা বেগম (৪০) গুরুতর আহত হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে চরবলেশ্বর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ রাতের নিরবতা চিড়ে কান্না ও চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে গিয়ে পুকুরপাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন শহিদুল ও মৌকলিকে। পাশেই মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন শহিদুলের স্ত্রী রেহানা।
স্থানীয়রা আহত রেহানাকে উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত শহিদুল ইসলাম ছিলেন চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং একইসঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক। তার ভাবি মৌকলি বেগম ছিলেন শহিদুলের ভাই মর্তুজা হাওলাদারের স্ত্রী।
বেঁচে যাওয়া রেহানা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, “রাতে হঠাৎ করে পার্শ্ববর্তী ইউনুসসহ কয়েকজন ঘরে ঢুকে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কুপিয়ে আমার স্বামী ও ভাবিকে হত্যা করে। এরপর আমাকে মেরে ফেলার জন্যও কোপাতে থাকে। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই।”
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ইউনুসের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এবং একটি পরকীয়াজনিত বিষয়ে উত্তেজনা চলছিল।
ইন্দুরকানি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং তদন্তের কাজ চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।”
এই রক্তাক্ত ঘটনার পর পুরো চরবলেশ্বর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষ হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতি আপডেট জানতে চোখ রাখুন 'সকালের আলো ডট কম'-এ।


এ জাতীয় আরো খবর