সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে ঐতিহাসিক চুক্তি: ট্রাম্পের ঘোষণা, ভারতের সঙ্গেও আসছে বড় চুক্তি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২৭ ১১:৩৮:৫১
ফাইল ছবি

দীর্ঘ টানাপোড়েন, চড়া শুল্ক আর পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে চলা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ অবশেষে গতি থামাতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর চীনের প্রতি আগের চেয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিজেই দিলেন শান্তির বার্তা।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক জনসভায় ট্রাম্প জানান, চীনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ না করলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি, যা দীর্ঘদিন ধরে অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। আমরা চীনকে উন্মুক্ত করতে শুরু করেছি-এটা এক বিরল মাইলফলক।”
এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনার নতুন পর্ব চলছিল। চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও উভয় দেশ আংশিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদেই চীনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের অভিযোগে শুরু হয় চড়া শুল্কের পাল্টাপাল্টি খেলা। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে সাময়িকভাবে ৯০ দিনের জন্য শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে দুই পক্ষ থেকেই। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এবার ট্রাম্প বলছেন, "এই চুক্তি আগের সব আলোচনা ছাপিয়ে গেছে।"
চীনকে ঘিরে নতুন চুক্তির ঘোষণা দিতে গিয়েই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভারতের সঙ্গেও একটি ‘বড় চুক্তি’ আসন্ন। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে কিছু দুর্দান্ত চুক্তি রয়েছে। আমি আশা করছি, ভারতকে নিয়ে আমরা একটি বড় সুযোগ কাজে লাগাতে যাচ্ছি। ভারতকে উন্মুক্ত করার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তারে ভারতকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল চীনের ওপর কৌশলগত চাপ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
এই সবকিছুই ঘটছে এক সময় যখন ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণ উদ্যমে প্রচার চালাচ্ছে তাদের নতুন কর ও ব্যয় হ্রাস আইন "One Big Beautiful Bill" নিয়ে। এই বিলটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর একটি’ হিসেবে।
ট্রাম্প বলেন, “এই বিল আমাদের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করবে, সীমান্ত নিরাপদ করবে এবং আমেরিকান স্বপ্নকে আবার বাস্তবে রূপ দেবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা আসন্ন নির্বাচনী বছরের প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা হ্রাস এবং ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা—দুয়োটিকেই বাড়াতে সহায়ক হবে।
অবশ্য এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এই চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কেমন হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে এমন একটি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর