ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক বর্বর হামলায় আরও ৮২ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকেই ছিলেন খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মধ্য গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জন ছিলেন মানবিক সহায়তা পাওয়ার আশায় অপেক্ষমাণ।
এছাড়া, গাজা সিটিতে ২৩ জন ও দক্ষিণ গাজায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার নিহতদের মধ্যে ১১ জন সহায়তা প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য, ওষুধ, এবং পানীয় জলের অভাবে শিশুদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। গাজা এখন এক ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও খরার মুখে।”
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই উন্মাদনার যত দ্রুত সম্ভব অবসান হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
গত ২৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন কিছু খাদ্য ও সহায়তা বিতরণ শুরু করে। তবে সেই সহায়তা কেন্দ্রের আশপাশে হামলা শুরু হওয়ায় কার্যত তা রূপ নেয় মৃত্যুকূপে।
জাতিসংঘ একে ‘ব্যর্থ সহায়তা তৎপরতা’ বলে অভিহিত করে বলেছে, “গাজায় সহায়তার নিরাপদ ও সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইসরায়েল ব্যর্থ হয়েছে।”
ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস হাসপাতাল ব্যবহার করছে বলে তারা হামলা চালাতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত গাজার ৭০০টিরও বেশি হাসপাতাল ও চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এগুলো সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের শামিল।
গাজায় সহায়তা প্রত্যাশী মানুষদের লক্ষ্য করেই চালানো হামলা ও সমন্বয়হীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় তুলেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সামনে বড়সড় মানবিক বিপর্যয় অনিবার্য।
সূত্র: আল-জাজিরা, ইউনিসেফ, জাতিসংঘ