শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

নরসিংদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর,এলাকায় শোকের ছায়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১০ ১২:০৮:০৫
ছবি সংগৃহিত

নরসিংদী, ১০ জুন ২০২৫
নরসিংদীর শিবপুরে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু। সোমবার (৯ জুন) রাতে উপজেলার বান্দারদিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের কেউই বেঁচে ফিরতে পারলেন না।
নিহত তিন তরুণ হলেন—
১. সাইফুল ইসলাম (২৫), পিতা: মৃত জামাল উদ্দিন
২. আশিক মিয়া (২৩), পিতা: বদু মিয়া
৩. অপু মিয়া (২০), পিতা: বাবুল মিয়া

তিনজনই শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের মির্জাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় খেলার সরঞ্জাম কেনার উদ্দেশ্যে তিন বন্ধু নরসিংদী শহরে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। ইটাখোলা-শিবপুর আঞ্চলিক সড়কের বান্দারদিয়া মোড়ে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন এবং রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে দুমড়েমুচড়ে যায় মোটরসাইকেলটি।
স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ও আশিককে মৃত ঘোষণা করেন। অপু মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
নিহতদের বন্ধু ওবায়দুল হক বলেন, “ওরা সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা করত, খেলাধুলা করত। খেলাধুলার সামগ্রী আনতেই শহরে গিয়েছিল। কিন্তু কারও জানা ছিল না, সেটাই হবে তাদের জীবনের শেষ সফর।”
ঘটনার পর থেকে পুরো মির্জাকান্দি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই গ্রামের তিন তরুণের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়রা ভেঙে পড়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় বালা। তিনি বলেন, “বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তিনজন তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। দুজনের মরদেহ আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
বাসটি শনাক্তে চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার পরপরই চালক গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে আনলো দেশের সড়ক নিরাপত্তার বেহাল চিত্র। গত কয়েক মাসে শুধু নরসিংদীতেই একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ইটাখোলা-শিবপুর সড়কে চালকদের বেপরোয়া গতি ও রাতে আলোর স্বল্পতা এমন দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবি জানিয়েছেন। এ সময় দোষী চালকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও উঠে আসে।
তিন তরুণের এমন অকাল মৃত্যু শুধু তিনটি পরিবার নয়, গোটা সমাজকেই নাড়া দিয়েছে। আর কত প্রাণ গেলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?-এই প্রশ্ন এখন নতুন করে জেগে উঠেছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর