ঢাকা-৭ জুন ২০২৫
ইউক্রেনের আকাশে ফের ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের ধোঁয়া ও ধ্বংসের হাহাকার। কিয়েভের সাম্প্রতিক সাহসী বিমানঘাঁটি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে শনিবার ভোররাতে ব্যাপক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই টানা হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি, রাশিয়া এক রাতেই ছুড়েছে ২০৬টি ড্রোন ও ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২০২৫ সালের অন্যতম ভয়ংকর বিমান হামলা বলে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে এই যুদ্ধে শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানান শহরটির মেয়র ইগর তেরেখোভ।
রুশ হামলায় খারকিভের বহু অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসিক ভবন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। তিনজন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ।
দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরেও রুশ গোলাবর্ষণে প্রাণ গেছে এক দম্পতির, আহত হয়েছেন অনেকে। আঘাত পেয়েছে দুটি উঁচু আবাসিক ভবন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দ্র প্রোকুদিন জানান, গোলাবর্ষণের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি এবার হামলা পৌঁছে গেছে ইউক্রেনের পশ্চিমেও। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, ওডেসা, টারনোপিল ও লুতস্ক শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। লুতস্কে শুক্রবারের এক হামলায় নিহত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় শনিবার সকালে। তাঁর বয়স ছিল বিশের কোঠায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সাহসী এক অভিযানে রাশিয়ার একটি পারমাণবিক বোমাবাহী বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাই এই প্রতিশোধমূলক হামলার মূল কারণ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্বেই এই অপারেশনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৩৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে হামলার ভয়াবহতা কমেনি, বরং বিস্তার বেড়েছে প্রায় পুরো ইউক্রেনজুড়ে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর আক্রমণের পর ইউরোপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংঘাত শুরু হয়। ইউক্রেনের বহু শহর ও গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়, কোটি কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক সময়েও শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয়নি, বরং ক্রেমলিন আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ি সিবিহা টুইটারে লিখেছেন,
“মস্কোর অপরাধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। কেবল নিন্দা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি।”
সকালের আলো বিশ্লেষণ
রাশিয়ার টানা আক্রমণ এবং ইউক্রেনের সাহসী পাল্টা জবাবে বোঝা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। একদিকে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আহ্বান উঠছে, অন্যদিকে ইউক্রেনকে সামরিকভাবে আরও সহায়তা দিতে পশ্চিমা দেশগুলোকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের তৃতীয় বর্ষে পৌঁছেও বিপর্যয়ের সীমা বাড়ছেই, থামছে না রক্তপাত।