সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

শান্তি নয়, শর্তে সংযত-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রুশ প্রেসিডেন্টের কঠোর বার্তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-২৯ ০০:৪৫:৪৯
ফাইল ছবি

ইউক্রেনে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও তা নির্ভর করছে বেশ কিছু কঠোর শর্ত পূরণের ওপর-এমন বার্তাই দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ থামানো এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে তিনি আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলেছেন।
বুধবার (২৮ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রুশ সরকারের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তাদের দাবি, পুতিন এখন যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী হলেও তা হবে "তার শর্তে, তার পছন্দের পথেই।"
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার চাইছেন, যাতে ইউক্রেন, জর্জিয়া এবং মলদোভার মতো সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোকে ন্যাটোর সদস্যপদ থেকে বিরত রাখা হয়। এই তিনটি দেশকে ঘিরে রাশিয়ার কৌশলগত উদ্বেগ দীর্ঘদিনের-যা এই যুদ্ধের অন্যতম অনুঘটক বলেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এছাড়া রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থানে রাখা, রুশ ভাষাভাষী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া-এগুলোও আলোচনার মূল উপাদান।
রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তিনি বলেন, “পুতিন শান্তির বিরোধী নন। কিন্তু সেটি হতে হবে মর্যাদা রক্ষা করে, জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ সুরক্ষায়।”
ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-দুজনই বিভিন্ন সময় ইউক্রেন সংঘাত অবসানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে পুতিনের মনোভাব নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “যদি রাশিয়া আলোচনায় না বসে, তাহলে তারা নিজেরাই ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে এগোবে। পুতিন যেন আগুন নিয়ে খেলছেন।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন হয়তো জানেন, কূটনৈতিকভাবে সমাধানে ব্যর্থ হলে সামরিক পথেই তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপকে বুঝিয়ে দিতে চাইবেন-শান্তির মাশুল কতটা বেশি হতে পারে। এক রুশ সূত্র বলেন, “পুতিন যখন বুঝবেন, তার শর্তে কোনো সমাধান আসছে না-তখন তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়িয়েই তার অবস্থান শক্ত করতে পারেন।”
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের অবকাঠামো, এবং রাশিয়াকেও বহির্বিশ্বে একঘরে করে তুলেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-পুতিনের এই ‘শর্তাধীন শান্তি’র প্রস্তাব কি বাস্তবে আলোচনার নতুন পথ খুলে দেবে, না আরও দীর্ঘ করবে এই ভয়াবহ সংঘাত?

 


এ জাতীয় আরো খবর