সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

আবারও আকাশে বিস্ফোরণ! ব্যর্থ স্টারশিপের নবম অভিযান,স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ কি বিপন্ন?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-২৮ ১৮:২৯:০০
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা- ২৮ মে ২০২৫
মহাকাশ জয়ের দৌড়ে আবারও বড় ধাক্কা খেল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। বহুল প্রতীক্ষিত স্টারশিপ রকেটের নবম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো আরেকটি ভয়াবহ ব্যর্থতায়। মঙ্গলবার (২৭ মে) সফলভাবে উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টার মাথায় বিশাল এ মহাকাশযান ভেঙে পড়ে।
এই নিয়ে টানা তিনবার ব্যর্থ হলো স্টারশিপ উৎক্ষেপণ, যা শুধু ইলন মাস্কের স্বপ্ন নয়, মানবজাতির ‘মাল্টিপ্লানেটারি’ ভবিষ্যতের কল্পনাকেও আপাতত থামিয়ে দিয়েছে এক অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে টেক্সাসের বোকা চিকা এলাকায় অবস্থিত স্টারবেস ঘাঁটি থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টার মধ্যেই স্টারশিপ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেঙে পড়ে।
সংস্থাটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বলেছে, “এই ব্যর্থতাও আমাদের কাছে একধরনের সাফল্য। কারণ প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাদের শিখিয়ে দেয় কোথায় উন্নতি দরকার। আমাদের লক্ষ্য মানবজাতিকে বহুপ্লানেটারি করা।”
২০২৫ সালের জানুয়ারি, মার্চ ও সর্বশেষ মে-এই তিন মাসে স্টারশিপের সব পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণই শেষ হয়েছে ধ্বংসে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উৎক্ষেপণ প্রকল্পে শুরুতে এ ধরনের ব্যর্থতা নতুন নয়, কিন্তু তিনবার একই ধরনের ফলাফল-এটি পরিকল্পনায় বড় রকমের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
স্পেসএক্স ও মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) যৌথভাবে তদন্ত শেষে কিছু হার্ডওয়্যার উন্নয়নের পর ২২ মে ফের উৎক্ষেপণের অনুমতি দেয়। কিন্তু তার ঠিক পাঁচ দিন পরই আবারও এমন ভেঙে পড়া প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং রকেট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
স্টারশিপকে শুধু একটি রকেট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি ইলন মাস্কের সেই ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ-যেখানে পৃথিবীর বাইরে, বিশেষ করে মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে এটি নাসার ২০২৭ সালের চন্দ্রাভিযানে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত যান।
এই ব্যর্থতাগুলো যদি ধারাবাহিক হয়, তাহলে শুধু স্পেসএক্স নয়, নাসার অনেক পরিকল্পনাও ব্যহত হতে পারে বলে মনে করছেন মহাকাশ গবেষকরা।
মহাকাশ প্রকল্প বিশ্লেষক মাইক স্ট্যান্ডল বলেন, “প্রতিটি উৎক্ষেপণের পেছনে থাকে বিশাল ডেটা। এসব ব্যর্থতা থেকে শিখে ভবিষ্যতের সফলতা তৈরি হয়। তবে স্পেসএক্সের এখন দরকার, সুনির্দিষ্ট ব্যর্থতার কারণ নির্ধারণ করে প্রযুক্তিগত রিফাইনমেন্ট।”
স্পেসএক্সের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করা এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ, এখনো তাদের হাতে রয়েছে সময়, তবে প্রশ্ন হলো-সেই সময় যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবে কি না!

ইলন মাস্কের মতো স্বপ্নদর্শীরা জানেন, ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ কখনোই মসৃণ নয়। স্টারশিপ বারবার ভেঙে পড়লেও তা হয়তো সেই ভবিষ্যতের ভিত্তিই তৈরি করছে-যেখানে মানুষ মঙ্গলেও হাঁটবে। কিন্তু এর আগে, বাস্তবতাও স্পষ্ট-উৎক্ষেপণ নয়, সফল গন্তব্যই প্রমাণ করবে স্টারশিপ আদৌ ইতিহাস গড়বে কি না।

নতুন মহাকাশ অভিযানের সব খবর পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন | #Starship #SpaceX #ElonMusk #RocketFailure


এ জাতীয় আরো খবর