মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সানা বিমানবন্দর: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন পর্ব

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-২৮ ১৫:৫৭:৪০
ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বলছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বুধবার (২৮ মে) ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে, যেটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রম এবং সীমিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বলে জানিয়েছে হুতিদের মালিকানাধীন আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। অপরদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা ছিল হুতিদের ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ প্রতিরোধে একটি প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, "সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।" এর আগের দিনই হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাব হিসেবেই সানা বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, হামলায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি বিমান ধ্বংস হয়েছে, যেগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত হতো। ইসরায়েল আরও জানায়, “যেমন হোদেইদা ও সালিফ বন্দরগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তেমনি সানার বিমানবন্দরও সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত একটি অবকাঠামো।”
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই বিমানবন্দর দিয়ে মানবিক সহায়তা এবং আম্মান থেকে সীমিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে হুতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ১৭ মে থেকে সানা বিমানবন্দরে আবার বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়েছে, তবে বুধবারের হামলার পর ফের সেই কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হুতিরা এই হামলাকে "ইসরায়েলি আগ্রাসন" বলে অভিহিত করেছে। তারা একাধিক হামলার কথা উল্লেখ করে বলেছে, বিমানবন্দরের অবকাঠামো এবং সেখানে থাকা বিমানগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের শুরুতে ইয়েমেনে পাল্টা হামলা শুরু করে, যার ফলে ইয়েমেন আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন আগে হুতিদের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও, হুতি গোষ্ঠী এখনও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ বেন গুরিওন বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র।
সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় হুতি গোষ্ঠী বলেছে, গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাবে তারা ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে ‘নৌ অবরোধ’ আরোপ করতে পারে। এর আগে গাজায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির সময় হুতিরা হামলা বন্ধ রেখেছিল, কিন্তু মার্চে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে।
ইয়েমেনে বহু বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আর কয়েক কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে একটি ছয় মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, হুতি-ইসরায়েল উত্তেজনা আবারো সংঘাত জোরালো করেছে।
এই হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সানা বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানানো মানে শুধু প্রতিশোধ নয়-এটি হুতিদের বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহার ঠেকাতে একটি কৌশলগত বার্তাও।

প্রতিবেদন: সকালের আলো ডট কম
সম্পাদনা: আন্তর্জাতিক ডেস্ক


এ জাতীয় আরো খবর