মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন বাধা: দূতাবাসে সময় নির্ধারণ স্থগিত,নজরদারিতে সোশ্যাল মিডিয়াও

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৮ ১২:৩৩:৪৫
ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং আরও কঠোর করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক কূটনৈতিক স্মারকে এই স্থগিতাদেশের কথা জানানো হয়। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো স্টুডেন্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা যাবে না।
স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “সকল দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে ছাত্র ভিসার আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে হবে।” এই পদক্ষেপের ফলে ভিসা প্রক্রিয়ার সময় আরও দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হার্ভার্ডসহ দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘বামপন্থী চিন্তাধারা’ ছড়াচ্ছে, ইহুদিবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতি অনুসরণ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল নিরাপত্তাজনিত নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেও অনুপ্রাণিত হতে পারে। ইতিমধ্যে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শত কোটি ডলারের সরকারি তহবিল স্থগিত করা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের উদ্যোগ, এমনকি ভিসা বাতিল পর্যন্ত গড়িয়েছে প্রশাসনের পদক্ষেপ।
স্মারকে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে, তাদের প্রক্রিয়া চলবে। তবে নতুনভাবে যারা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে চায়, তাদের জন্য প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাসগুলো সাধারণত শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য নিজ নিজ দেশে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশোনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি মাঝপথে থমকে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বহিরাগত শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কারণ, বিদেশি শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি টিউশন ফি প্রদান করে, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক অংশে অর্থায়ন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সরকারের এই কঠোরতাপূর্ণ পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা এবং উচ্চশিক্ষার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী বিদেশি-তাদের ওপর এই সিদ্ধান্ত ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রে কে আসছে, তা যাচাই করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি এবং এটি অব্যাহত থাকবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী নানা সিদ্ধান্ত যেমন-ভিসা বাতিল, তহবিল স্থগিত, ভর্তি নিষেধাজ্ঞা-এর বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে ফেডারেল আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। তবে প্রশাসন নতুন নির্দেশনায় সামগ্রিক ভিসা নীতিকে নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রসঙ্গ টেনে আরও কঠোর করতে চাইছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক শিক্ষার ভাবমূর্তি এবং বিশ্বব্যাপী মেধা আকর্ষণের সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। এতে মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর