বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তারে ক্ষুব্ধ এনসিপি: 'জুলাই গণহত্যার বিচারকে প্রহসনে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে'

  • নিউজ ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-২০ ০০:৩৮:৫০
ছবি সংগৃহিত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনাটি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করছে। দলটি অভিযোগ করেছে, জুলাই গণহত্যার মতো একটি ভয়াবহ ও জাতীয় গুরুত্বের অপরাধের বিচারে যাদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে, তারা আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে; অথচ বিচারের নামে অন্যদের ঢালাওভাবে আসামি করা হচ্ছে।
সোমবার (১৯ মে) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ধরনের ‘লোকদেখানো গ্রেপ্তার’ আসলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নুসরাত ফারিয়াকে রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এনসিপি দাবি করে, এই মামলা এবং বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গণহত্যার বিচারের মূলধারাকে ধোঁয়াচ্ছন্ন করছে।
এনসিপি বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কোনো ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেশত্যাগ করেছেন। অথচ ৬২৬ জন সেনা সদস্য যাদের ওই সময় বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়ার তথ্য রয়েছে, তাদের পরিচয় আজও অজানা।”
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। “অথচ রাষ্ট্রের একটি অংশ, বিশেষ করে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা পক্ষটি বিচার প্রক্রিয়াকে লক্ষ্যচ্যুত করতে সচেষ্ট,” উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
গণহত্যার বিচারের অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপি বলেছে, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারির অভাবে বিচার কার্যক্রম থমকে আছে।”
দলটি দাবি করেছে, জুলাই মাসের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে হবে। “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এই বিচার বিলম্বিত হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে, আর তার দায় রাষ্ট্রকাঠামো বহন করতে পারবে না,” উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে, “যতই রাজনৈতিক উত্তাপ থাকুক, মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত জরুরি। হরেদরে মামলা, ভুয়া আসামি এবং মামলাবাণিজ্যের অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।”
সবশেষে এনসিপি বলে, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে বিচারের নামে প্রহসন নয়, বরং জবাবদিহিতা থাকবে। যেখানে অভিনেত্রী নয়, প্রকৃত অপরাধী কারাগারে যাবে। এবং গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।”

 


এ জাতীয় আরো খবর