ঢাকা, ৩০ এপ্রিল:
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে এলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার জেলায় গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য আজ বুধবার মোট তিনশত পুনর্বাসন ঘর বিতরণ করেছেন তিনি।
ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।
ঘর পেল তিন শতাধিক পরিবার
বন্যায় সর্বস্ব হারানো মানুষের মুখে ছিল স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতার ছাপ।
ফেনীতে ১১০টি,
নোয়াখালীতে ৯০টি,
কুমিল্লায় ৭০টি,
চট্টগ্রামে ৩০টি পুনর্নির্মিত ঘর হস্তান্তর করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে জেলা প্রশাসকগণ সুবিধাভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন। এতে উপকারভোগীরা তাঁদের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, "এই ঘর শুধু বসবাসের জায়গা নয়, এটা আমাদের নতুন জীবনের শুরু।"
প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার বিষয়টি তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন,
"বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক ব্যয় করেই সফলভাবে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
এ সময় তিনি এই প্রকল্পকে একটি উদাহরণমূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রকল্পগুলোর জন্য রোল মডেল হয়ে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৃহনির্মাণ কাজের সার্বিক দায়িত্বে ছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁরা ঘরগুলো নির্মাণ করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন,
"এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং জাতির পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্ব। আমরা সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, থাকব।"
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা। তাদের সবাই এই প্রকল্পে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগকে ‘দুর্যোগকালীন মানবিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এই ঘর বিতরণ কর্মসূচি প্রমাণ করে, দুর্যোগ মুহূর্তে কার্যকর নেতৃত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপ মানুষকে কেবল পুনর্বাসিতই করে না, বরং আস্থা ও মর্যাদার সঙ্গে সমাজে ফেরত আনে।
এই প্রকল্প শুধু বন্যা দুর্গতদের জন্য ঘর নির্মাণ নয়, বরং তা একটি বার্তা-রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চাইলে কম বাজেটেও বড় মানবিক অর্জন সম্ভব।