সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

হামাসকে নিয়ে 'কুকুরের বাচ্চা' মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৪-২৪ ০০:৫৪:১৬
ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি হামাসকে ‘কুকুরের বাচ্চা’ বলে আখ্যায়িত করেন। এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক অঙ্গন। এরই মধ্যে হামাস কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের গাজা অভিযানের পর থেকে এটাই মাহমুদ আব্বাসের পক্ষ থেকে হামাসবিরোধী সবচেয়ে কঠোর ও অবমাননাকর মন্তব্য। তিনি বলেন, “হামাস গাজার ওপর অবৈধ দখলদারিত্ব চালিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করছে। তাদের হাতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের মুক্তি দিতে হবে।”
আব্বাস আরও বলেন, “হামাসের অস্ত্র জমা দিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত। গাজার নিয়ন্ত্রণ তাদের ছেড়ে দিতে হবে। কারণ তারা আমাদের মুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

হামাসের প্রতিক্রিয়া: ‘অপমানজনক ও বিভাজনমূলক’
আব্বাসের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাসের রাজনৈতিক শাখা। সংগঠনের অন্যতম নেতা বাসেম নাইম বলেন, “এই ভাষা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের বৃহত্তর অংশের প্রতি অবমাননাকর। আব্বাস নিজের লোকদের অপমান করছেন।”
২০০৭ সালে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাস এবং পশ্চিম তীরের পিএ-র মধ্যে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আব্বাসের এমন বক্তব্য অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বদলে আরও ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে আরও গভীর বিভক্তি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আব্বাসের এমন কড়া মন্তব্য ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েলের সামরিক দমন-পীড়নের মুখে যখন ফিলিস্তিনিরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রয়োজন অনুভব করছে, তখন অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের এমন বিরোধ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে।
একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মাহমুদ আব্বাস হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তিনি হামাসের কর্মকাণ্ডের দায় নিচ্ছেন না। কিন্তু এই বার্তা ফিলিস্তিনের ভেতরে বিভক্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।”

সমাধানের পথ কোথায়?
আব্বাস ও হামাসের এই বিরোধ নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা আরও বেশি স্পর্শকাতর। যেখানে ফিলিস্তিনের লাখো মানুষ গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন, সেখানে নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তাদের জন্য আশার বদলে উদ্বেগই বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনি জাতির জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। না হলে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ শুধু বাহ্যিক আগ্রাসন নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বলিও হবেন।


এ জাতীয় আরো খবর