বিশ্বখ্যাত ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে একবার পোস্ট দিয়েই তা মুছে ফেলেছে ইসরাইল। সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও এই পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন পোপের গাজা যুদ্ধ সংক্রান্ত অবস্থানের সঙ্গে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইসরাইলের অফিশিয়াল পেইজ থেকে লেখা হয়, “আপনার আত্মা শান্তি পাক, পোপ ফ্রান্সিস। তার জীবন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” বার্তাটি কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে দেওয়া হয়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বার্তাটি “ভুলবশত” প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে দাবি করেন, প্রয়াত পোপ একাধিকবার “ইসরাইলবিরোধী অবস্থান” নিয়েছেন।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে পোপের অবস্থান: ইসরাইলের অস্বস্তির জায়গা
পোপ ফ্রান্সিস নিজের ১২ বছরের দায়িত্বকালে সাধারণত দ্বন্দ্বপূর্ণ বিষয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেও গাজা যুদ্ধের সময় তার অবস্থান ছিল মানবিক সহানুভূতিমূলক এবং কখনও কখনও ইসরাইল-বিরোধী বলে বিবেচিত হয়েছে।
গত নভেম্বরে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজায় কি কোনো গণহত্যা ঘটছে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
চলতি বছরের শুরুতেও তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে “লজ্জাজনক” আখ্যা দেন। যার ফলে রোমের প্রধান র্যাবাই (ইহুদি ধর্মীয় নেতা) প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেন এবং পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্যের অভিযোগ তোলেন।
নেতানিয়াহুর নীরবতা,হেরজগের কূটনৈতিক বার্তা
পোপের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ এক খোলা চিঠিতে খ্রিস্টানদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, “পোপ ছিলেন সহমর্মিতা ও বিশ্বাসের প্রতীক।”
ইহুদি-খ্রিস্টান সম্পর্কের পটভূমি
ক্যাথলিক চার্চ ও ইহুদি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে জটিল ও রক্তক্ষয়ী। তবে সাম্প্রতিক দশকে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ ছিল দৃশ্যমান। সেই প্রেক্ষাপটে পোপ ফ্রান্সিস কখনও ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, আবার গাজার সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশেও ছিলেন সক্রিয়।
তবে গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মানবিক আহ্বানকে অনেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকেন। সেই মনোভাবই হয়তো পোপের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আবার তা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ব্যাখ্যার পথ দেখায়।
এই ঘটনাটি কেবল একটি শোকবার্তা মুছে ফেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকেত, ধর্মীয় রাজনীতি ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানবিক অবস্থানের জটিলতা তুলে ধরছে-যেখানে একজন পোপের মৃত্যু নিয়েও বিভক্ত বিশ্ব তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খুঁজে ফেরে।