ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জংশন ডুমুরিয়ার চুকনগর জিরো পয়েন্ট ও গোলচত্বর এলাকায় পুরোদমে সংস্কার এবং আরসিসি কংক্রিট ঢালাইয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যস্ততম মহাসড়কটির বেহাল দশা ও বড় বড় খানাখন্দের কারণে সৃষ্ট চরম ভোগান্তি লাঘবে সওজ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে এই কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এ রুটে চলাচলকারী চালক, যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে।
খুলনা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর-আঠারোমাইল পর্যন্ত মহাসড়কটি বাণিজ্যিক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোমরা স্থলবন্দর ও মোংলা বন্দরের ভারী পণ্যবাহী যানবাহনসহ প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি এই সংযোগ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহনের চাপের কারণে মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও মরণফাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চুকনগর জিরো পয়েন্ট ও গোলচত্বর এলাকায় পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যেত এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত।
এই জনদুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে সড়ক বিভাগ বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মহাসড়কের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চুকনগরে ১ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং খুলনার জিরো পয়েন্টে ১ দশমিক ১ কিলোমিটার অংশ জুড়ে টেকসই আরসিসি (RCC) কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এই আরসিসি ঢালাইয়ের ফলে অতিরিক্ত লোড বা ভারি যানবাহন চলাচলেও সড়কটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয় বাস চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জানান, চুকনগর জিরো পয়েন্টে খানাখন্দের কারণে গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময় অপচয়ের পাশাপাশি গাড়ির পার্টস নষ্ট হতো। এখন কাজ শুরু হওয়ায় তারা খুশি, তবে জনস্বার্থে কাজটির মান বজায় রেখে দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, "খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের চুকনগর ও জিরো পয়েন্ট এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে আমরা ধাপে ধাপে টেকসই সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছি। প্রথম পর্যায়ে চুকনগর গোলচত্বর ও জিরো পয়েন্টের নির্দিষ্ট অংশে কংক্রিট সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশেরও উন্নয়ন করা হবে। কাজগুলো সম্পন্ন হলে এ সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং যাত্রী ও চালকরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবেন।"