মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

‘অপারেশন সিন্দুর’-এ যুদ্ধনীতি বদলের বার্তা: পাকিস্তানকে পারমাণবিক হুমকির জবাব দিলেন মোদি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
  • ২০২৫-০৫-১৩ ১৩:১৮:৩২
ছবি সংগৃহিত

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শক্ত বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিলেন-আর কোনো ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ বরদাস্ত করবে না দিল্লি। “অপারেশন সিন্দুর” এখন থেকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নতুন নীতির নাম, যা শুধু সামরিক অভিযানের নয়, কূটনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানেরও প্রতীক-এমনটাই বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
সোমবার (১২ মে) রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “সন্ত্রাসবাদীরা বুঝে গেছে, ভারতীয় নারীদের সিঁথিতে সিঁদুর মোছার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।” তিনি এ অভিযানের নামকরণ করেছেন ‘অপারেশন সিন্দুর’, যা একদিকে নারীজাতিকে উৎসর্গ, অন্যদিকে ভারতের সম্মান রক্ষার প্রতিশ্রুতি।
এ বক্তব্যে মোদি একদিকে যেমন আবেগের ছোঁয়া দিয়েছেন, তেমনই তুলে ধরেছেন কৌশলগত দৃঢ়তা। এই অপারেশনকে তিনি উৎসর্গ করেছেন “দেশের প্রতিটি মা,বোন ও কন্যার প্রতি”।
প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। ব্যবসা ও বারুদের যুগলবন্দী আমরা মানি না। জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না।” তিনি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কোনো আলোচনার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা একমাত্র ‘সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ ইস্যু ঘিরেই।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তারা ‘নতুন নর্মাল’ তৈরি করেছে-যার অর্থ হলো প্রয়োজন হলে পুনরায় পাল্টা আঘাত।”
তার দাবি, ভারতীয় সেনারা এমন সব ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে যেগুলোর অস্তিত্ব কেবল সন্ত্রাসের মানচিত্রেই ছিল। “ওরা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি, ভারত এমনভাবে প্রত্যাঘাত করতে পারে।”
মোদি বলেন, “কোনো দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করবে-এমন দিনের অবসান হয়েছে। ভারত এখন সেই ভয়ভীতি ও দ্বিধার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।”
এই বক্তব্য একদিকে যেমন পাকিস্তানকে কৌশলগত বার্তা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর এটি প্রথমবারের মতো এমন সরাসরি পারমাণবিক হুমকির প্রত্যুত্তর।
মোদির এই বক্তব্যের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সামরিক দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সূত্র জানায়, ইসলামাবাদ ‘অপারেশন সিন্দুর’কে একটি একতরফা আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘে নালিশ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারতের এই বার্তাকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কেবল এক সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়-বরং কৌশলগত অবস্থান বদলের ঘোষণা। মোদি তার ভাষণে কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং পাকিস্তানের ‘সাংবিধানিক কর্তৃত্ব’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’ প্রসঙ্গে।
মোদি বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে উভয় দেশকে “চরম সংযম” দেখানোর আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন-তিন বৃহৎ শক্তিই এই সংঘাত যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভারতের বর্তমান কৌশল স্পষ্ট-আবেগ ও শক্তি মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ সমর্থন যেমন জোগাড় করা, তেমনই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের অবস্থান পোক্ত করা। ‘অপারেশন সিন্দুর’ হয়তো সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিল, যার রক্তাক্ত পৃষ্ঠা কেবল সীমান্তে নয়-রাজনীতির ভেতরেও দাগ রেখে যাবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর