১২ মে, সোমবার | ইসলামাবাদ
দীর্ঘ দুই বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানের বন্দিজীবনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের দিন’ আখ্যা দিয়ে রবিবার (১১ মে) পেশোয়ারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিক্ষোভ হয়।‘একটি কণ্ঠরোধের বর্ষপূর্তি নয়, এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক কলঙ্কের দিন’ -বললেন পিটিআই নেতারা।
পেশোয়ারে প্রধান সমাবেশ
পেশোয়ারে আয়োজিত কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শানদানা গুলজার, মাহমুদ জান, শের আলী আরবাব, ইরফান সলিম, ফয়সাল জাভেদ, কামরান বাঙশ প্রমুখ। তারা অভিযোগ করেন, “ইমরান খানের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়া একের পর এক মামলা দায়ের করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।”
নেতারা বলেন,“বিচারালয় জামিন দিলেও সরকার বারবার নতুন মামলা দিয়ে তাঁকে আটক রাখছে। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।”
মুখ্যমন্ত্রীকেও বাধা
বক্তারা অভিযোগ করেন, ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ঘনিষ্ঠজনেরা। এমনকি খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্ডাপুর পর্যন্ত কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন।
একজন বক্তা বলেন,“এটা শুধু একজন রাজনীতিকের কণ্ঠ রোধ নয়, পুরো পাকিস্তানি জনতার আকাঙ্ক্ষাকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টার নাম।”
ভারত প্রসঙ্গে পিটিআইয়ের বার্তা
বক্তারা ভারতের সাম্প্রতিক ‘আগ্রাসী মনোভাবের’ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইমরান খান যদি মুক্ত থাকতেন, তবে ‘ভারতের মোকাবেলায় সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ হতেন তিনিই’।
তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ভারতের ভুল ধারণা ভেঙে গেছে-পাকিস্তান দুর্বল নয়, সংগঠিত।”
পিটিআই নেতাদের ভাষায়, “পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমরা সেনাবাহিনীর পাশে আছি। কিন্তু একইসাথে আমরা প্রশ্ন করতে চাই, কেন একটি জনপ্রিয় নেতাকে এভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে?”
ইমরান খান একদিন ফিরবেন
সমাবেশের সমাপ্তি টেনে দলের নেতারা বলেন, ইমরান খান শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রতীক-স্বাধীনতার, স্বপ্নের এবং সংবিধান রক্ষার। তাকে আটকিয়ে রাখা গেলেও, তার আদর্শ আটকে রাখা যাবে না।
“দুই বছর আগের এই দিনটি আমরা আজও ভুলিনি। কারণ সেটা ছিল গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক গোপন যুদ্ধের সূচনা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে-এই যুদ্ধে শেষ হাসি ইমরান খানেরই হবে।”