টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাঁচ জেলার প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি (বিসিআরএস)-এর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানবাধিকার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
শনিবার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, মানবিক এই দুর্যোগে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ করে দুর্গত মানুষের কাছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে সংগঠনের সকল জেলা ও উপজেলা কমিটির সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা এবং হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাও বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
বন্যায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও জলাশয় প্লাবিত হয়ে প্রায় ৯১ কোটি টাকার মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতেও প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিসিআরএস নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাত কমে আসা এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের বেগ হ্রাস পাওয়ায় নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে এবং পানিবন্দি মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সকল মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।