মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

সব ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৩-১৪ ১৩:২৬:১৭
ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের মিলিত আবাসভূমি এবং এই ঐতিহ্য অটুট রেখেই একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তোলা হবে।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি, এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী সবাই মিলেই ভালো থাকব।
বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ-এর ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহ-র হাতে সম্মানীর চেক তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আইবাস সিস্টেমে সেন্ট বাটন চাপার মাধ্যমে সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হলো। যাদের প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।
নাগরিকদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে পাইলটিং স্কিমের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে আরও অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ চাইলে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভায় একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। প্রতিটি মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি শক্ত ভিত্তির রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরশাসন বা অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া-এর সরকারের সময় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি তাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।
ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও মানবিকতা ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এসব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে ধর্মের উদারনৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধর্মেই মানবকল্যাণ ও নৈতিকতার ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সেই বার্তাকে ধারণ করে সমাজে নৈতিকতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অপরিসীম।

কী-ওয়ার্ড:ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশ,ইমাম মুয়াজ্জিন সম্মানী,তারেক রহমান বক্তব্য


এ জাতীয় আরো খবর