সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-২৬ ২৩:৩২:৩৬
ছবি: সংগৃহীত।

অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের প্রেক্ষাপটে এটিকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের সুযোগ রয়েছে কি না-সেটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান। তার মতে, আন্তর্জাতিক বইমেলা হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহুভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় সমৃদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পালিত একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। বইমেলা শুধু বেচাকেনার আয়োজন নয়, এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের সূতিকাগার হয়ে উঠুক-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তারেক রহমান প্রস্তাব দেন, বইমেলাকে শুধু ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারায় যুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে। সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেলার আকার বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। এক জার্মান দার্শনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য ব্যায়ামের মতো কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

কী-ওয়ার্ডস:অমর একুশে বইমেলা,আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রস্তাব,বাংলা একাডেমি


এ জাতীয় আরো খবর