মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য সামনে,ঋণের চাপ পেরিয়ে ৯% প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-২৪ ০৩:৫৪:২৪

দেশের অর্থনীতিকে বর্তমান প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Time-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থনীতি গত দেড় বছরে বড় চাপে পড়েছে। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে দেশকে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে বাংলাদেশ ‘রোলওভার রিস্ক’-এ পড়তে পারে। বর্তমানে মোট সরকারি ঋণ প্রায় ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে ১০১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার অভ্যন্তরীণ এবং ৮৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আর্থিক চুক্তি ও দায়-দেনা পর্যালোচনায় একটি শক্তিশালী ট্রানজিশন টিম গঠন জরুরি। তার মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফরেনসিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
অন্যদিকে Policy Exchange Bangladesh-এর চেয়ারম্যান মাশুরুর রিয়াজ বলেন, মোট বৈদেশিক ঋণ ১১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থার সহজ শর্তের দীর্ঘমেয়াদি ঋণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণকেও বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পণ্যে শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে, তবে রপ্তানি সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ সুদের হার, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অতিরিক্ত সরকারি ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে ‘ক্রাউড আউট’ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।
বিশ্লেষণ বলছে, ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ-এই চার স্তম্ভে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুবা উচ্চ ঋণ পরিশোধের চাপ ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি আগামী বছরগুলোতে অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।

কী-ওয়ার্ড: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, ঋণ ঝুঁকি, ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি


এ জাতীয় আরো খবর