দেশের বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ হিসাবে নিট রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিট রিজার্ভ ছিল প্রায় ২০.১৮ বিলিয়ন ডলার। সেখানে চলতি বছরের ২৮ ডিসেম্বর দিনের শুরুতে নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮.১১ বিলিয়ন ডলারে। এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৭.৯৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগের সরকারের বকেয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, চলতি ব্যয় মেটানো এবং বর্তমান সরকারের নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভে এই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে। রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে অর্থপাচার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের গ্রস রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৮০ বিলিয়ন ডলারে।
তবে ইতিবাচক রিজার্ভ পরিস্থিতির মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতির চিত্র দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আগস্ট পর্যন্ত এই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও সেপ্টেম্বর থেকে ঘাটতি শুরু হয়। এ সময় রপ্তানি আয় কিছুটা কমে যায় এবং আমদানি ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায় বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার মান মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছিল, পরে বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে হস্তক্ষেপ করেছে।
কীওয়ার্ডসঃবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ,বাংলাদেশ ব্যাংক,ডলার-টাকা বিনিময় হার