মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের দেশব্যাপী নির্মাণ-নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-১১-২৮ ০৯:৫৪:৩২
ছবি: সংগৃহীত।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক বৈঠকে ২০২৫ সালের রাজউক অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। বৈঠক শেষে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব ভবন এবং নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেওয়ার জন্য একটি পৃথক জাতীয় কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে রাজউকের ক্ষমতা সীমিত-শুধু রাজউকের আওতাধীন এলাকাতেই অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য, রাজধানীসহ সারাদেশে সুনির্দিষ্ট, নিরাপদ ও নিয়মমত নির্মাণ নিশ্চিত করা। 
নতুন অধ্যাদেশে রয়েছে: নতুন ভবন, পুনর্বিকাশ, জলাশয় খনন বা ভরাট, খেলার মাঠ ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, জমি পুনর্বিন্যাস, এবং অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণে শাস্তির বিধান। যেকোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অপসারণসহ জরিমানা বা অন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন-বিশেষ করে গ্রামের মতো অ-নগর এলাকায় চার থেকে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ বাড়ায় যা নিরাপদ নির্মাণ বিধি, ভূমিকম্প ও অগ্নি ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়েই হচ্ছে। ফলে পুরো দেশে ভবন তদারকি ও অনুমোদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজউক অধ্যাদেশ ২০২৫ পাস হওয়ায় ১৯৮৭ সালের পুরনো আইনকে বদলে নতুন আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে সারা দেশে ভবন ও নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ হবে। আইনটি কার্যকর হলে অনুমোদনবিহীন নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যান ভঙ্গ, ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এই সিদ্ধান্তকে নগর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সংরক্ষণের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশাবাদ, যদি নতুন কর্তৃপক্ষ ও নিয়মগুলো মানুষ-মুখী ও জোরদারভাবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে ভবন নির্মাণ ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম কমবে, আর নিরাপত্তাভিত্তিক নগর বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হবে।

কীওয়ার্ড:
নির্মাণনিয়ন্ত্রণ
নতুনঅধ্যাদেশ
পৃথককর্তৃপক্ষ


এ জাতীয় আরো খবর