সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত: ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-৩১ ১৮:৪৫:১৩
ছবি সংগৃহিত

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের সংসদ কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন উচ্চকক্ষ হবে ১০০ আসনের এবং সদস্যরা জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে (পিআর পদ্ধতি) মনোনীত হবেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার ২৩তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আলোচনার চূড়ান্ত সনদ দ্রুতই রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থবিল ছাড়া অন্য সব বিল নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না; এক মাসের বেশি আটকে রাখলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। উচ্চকক্ষ মূলত বিল পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ এবং সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে।
এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি। তারা দাবি করেছে, উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির পরিবর্তে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যদিকে, সিপিবি, বাসদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করেছে।
আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার। কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উচ্চকক্ষের বিল শিগগিরই সংসদে উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কীওয়ার্ডস: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন উচ্চকক্ষ, ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ প্রস্তাব, পিআর পদ্ধতিতে সদস্য মনোনয়ন, বিএনপি আপত্তি উচ্চকক্ষ, সংসদ সংস্কার বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর