সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা ১০ বছর ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য

  • সকালের আলো ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৭ ১৮:৫৯:৪১
ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন-এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়েও একমত হয়েছে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো।
রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ।
আলী রীয়াজ বলেন, "আমরা এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করবেন—এ বিষয়ে একমত হয়েছি। এটি আমাদের সনদে উল্লেখ থাকবে।"
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করেছি, ১০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারবেন না। এটি আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত।"
একই আলোচনায় বাংলাদেশে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব পেশ করে কমিশন। আলোচনার পর অংশগ্রহণকারী দলগুলো এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি জানায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এই কমিশন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত হবে। সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা। কমিশনে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিসহ মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
চেয়ারপারসন ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন।
সদস্যদের জবাবদিহিতা, দায়িত্ব ও অপসারণের নিয়ম পৃথক আইনে নির্ধারিত হবে।
পুলিশ সদস্য ও সাধারণ নাগরিক উভয়পক্ষের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষমতা থাকবে এই কমিশনের হাতে।
সংলাপে কারা ছিলেন, কারা ছিলেন না
এই সংলাপে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কীওয়ার্ডসঃ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, স্বাধীন পুলিশ কমিশন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংস্কার, Bangladesh politics

 
 

এ জাতীয় আরো খবর