মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত,ভিন্নমতের সুযোগ আছে

  • সকালের আলো ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৫-০৭-২২ ২৩:৪৭:৩২
ছবি সংগৃহিত

দীর্ঘ আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: দলীয় প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে এতে সম্মত না-থাকা রাজনৈতিক দলগুলো 'নোট অব ডিসেন্ট' আকারে তাদের আপত্তি জাতীয় সনদে সংযুক্ত করতে পারবে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সঙ্গে ১৭তম দিনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সংলাপের শুরুতে কমিশনের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ ঘোষণা দেন।
আলী রীয়াজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পদে দলীয় প্রধানকে বসানো যাবে না-এই সিদ্ধান্তে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তবে কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করেছে। তারা তাদের মতামত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে জাতীয় সনদে তুলে ধরতে পারবে।”
এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এক ব্যক্তির একাধিক ক্ষমতা ভোগের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে চাইছে ঐকমত্য কমিশন। এই পদক্ষেপ দেশকে নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং বহুমাত্রিক নেতৃত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক সাহসী প্রয়াস বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিএনপি, এলডিপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও আম জনতার দল-এই দলগুলো একক নেতৃত্বের পক্ষে মত দিয়েছে। অর্থাৎ, তাদের মতে, একজন দলীয় প্রধান একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে পারবেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গনঅধিকার পরিষদ, বিকল্প ধারা, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি সহ বেশ কিছু দল এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, দল ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে একই ব্যক্তি থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়।
মঙ্গলবারের বৈঠকে শুধুমাত্র এই বিতর্কিত ইস্যু নয়, আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চূড়ান্ত আলোচনাও হয়:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব সমন্বয় করে চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন।
নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ন্যায়পাল নিয়োগে সুস্পষ্ট বিধান প্রণয়ন।

এদিনের বৈঠকের শুরুতেই মাইলস্টোন কলেজ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কমিশনের সদস্য ও সুপরিচিত নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি ড. বদিউল আলম মজুমদার।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা প্রধানমন্ত্রিত্বের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মত দিয়েছে, তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে আলাদাভাবে তাদের অবস্থান জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ করতে পারবে। এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক মতপার্থক্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার যুগান্তকারী নজির হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে “এক ব্যক্তি কর্তৃত্ব” থেকে বেরিয়ে এসে সমষ্টিগত ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বাস্তব পদক্ষেপ। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত সম্মতি এবং আগামীদিনে নির্বাচনী ব্যবস্থায় এই রূপরেখা বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে এ সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ও টেকসই হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই সংলাপ শুরু হয়েছিল গত জুন মাসের মাঝামাঝি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে উঠতে ৪৮টি নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণে এই আলোচনা এখন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে।
কমিশনের লক্ষ্য একটি জাতীয় রূপরেখা বা সনদ তৈরি, যেখানে রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচন, প্রশাসন, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো বিষয়ে সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা থাকবে।

কীওয়ার্ডসমূহ:জাতীয়ঐকমত্যকমিশন,প্রধানমন্ত্রীরপদ,নোটঅবডিসেন্ট,রাজনৈতিকসংলাপবাংলাদেশ,AliRiazStatement


এ জাতীয় আরো খবর