মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

এসএসএফ-এর উদ্দেশ্যে ইউনূসের বার্তা: ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • ২০২৫-০৬-১৮ ১২:৪৭:০৫
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ১৮ জুন ২০২৫
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম সংবেদনশীল বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-কে পেশাদারিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু বাহ্যিক কর্ম নয়, এটি একটি চরিত্রগত ও নৈতিক দায়িত্ব।”
বুধবার সকালে এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ইউনূস। দেশের রাষ্ট্রীয় ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত এসএসএফের ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ইউনূস এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাজ শুধু শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নাগরিক আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলা। এজন্য আপনাদের থাকতে হবে দৃঢ় চরিত্র, উন্নত শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিকতা। সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করাই হবে আপনাদের সত্যিকারের পেশাদারিত্ব।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, এসএসএফ-এর কাজের ধরন অন্যান্য বাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল ও জটিল, যেখানে সিদ্ধান্তের প্রতিটি মুহূর্তে সাম্য, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এসএসএফ-এর আকার হয়তো ছোট, কিন্তু এর দায়িত্ব কোনো অংশেই ছোট নয়। এটি এমন একটি বাহিনী যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আমার বাসস্থান, কার্যালয়, অনুষ্ঠানস্থল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা-সব ক্ষেত্রেই এসএসএফ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, এমনকি বিদেশে তার সফরকালীন এসএসএফ-এর কাজের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এসএসএফ শুধুমাত্র আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, বরং আমার প্রত্যেকটি সফরকে সফল করে তুলেছে।”
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে জনজীবনে ভোগান্তির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নিরাপত্তার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হয়। তবে আমি বারবার নির্দেশ দিয়েছি যেন জনগণের কষ্ট যেন কমানো যায়। অতীতে ভিআইপি ফ্লাইটের কারণে ঘণ্টাখানেক বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হত, যা আমি বাতিল করেছি। এটি জনবান্ধব রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ।”
ইউনূস জানান, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনে এসএসএফ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। শিগগিরই তারা ১২ বছরের পুরোনো রেডিও সিস্টেম পরিবর্তন করে আধুনিক UHF রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম যুক্ত করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে যমুনা কমপ্লেক্সে সাইবার নিরাপত্তা সুসংহত করার কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
“আমি খুশি হয়েছি জেনে যে অত্যাধুনিক ইনডোর ফ্লাইট ফায়ারিং রেঞ্জ-এর কাজ প্রায় শেষ। আগামী মাস থেকেই এটি ব্যবহারযোগ্য হবে।”
এসএসএফ-এর আধুনিকায়নে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তা সংস্থা-পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এসএসএফ যেন সমন্বিতভাবে কাজ করে, সে আহ্বান জানিয়ে ইউনূস বলেন, “নিরাপত্তা আলাদা কোনো বাহিনীর কাজ নয়। এটি সম্মিলিত প্রয়াস। এই সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো।”
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, “এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনকার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। এখন আমরা একটি ভিন্ন বিশ্বে বাস করছি-যেখানে নিরাপত্তা হুমকির ধরনও বদলে গেছে। প্রযুক্তি যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বাড়িয়েছে।”
তিনি এসএসএফ-এর সামগ্রিক পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন- “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুযোগ্য নেতৃত্ব আর প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে এসএসএফ একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাদার বাহিনী হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য এসএসএফ-এর জন্য কেবল উৎসাহ নয়, বরং ভবিষ্যৎ পথচলার রূপরেখা। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবান্ধব মনোভাব ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়-এসবকে মূলনীতির অংশ করে গড়ে উঠুক একটি গণমুখী, আধুনিক নিরাপত্তা বাহিনী।


এ জাতীয় আরো খবর