মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করল সেনাবাহিনী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২৩ ০০:৩৫:১৮

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলার হঠাৎ অবনতির প্রেক্ষাপটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২২ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, এবং জন-উচ্চারণের নামে সহিংসতার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ রক্ষায় সেনানিবাসে আশ্রয় নেন।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব মানুষ সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন:
২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
৫ জন বিচারক
১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা
৫১৫ জন পুলিশ সদস্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী
১২ জন বিভিন্ন পেশার নাগরিক
পরিবারসহ ৫১ জন (স্ত্রী ও সন্তান)
এই তালিকায় ৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য এবং ১ জন এনএসআই কর্মকর্তা-ও রয়েছেন, যা এবার প্রকাশিত তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয়, কারণ সেই মুহূর্তে পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে জীবন রক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে সেনাবাহিনী আশ্রয় দিয়েছে।
আইএসপিআরের ভাষায়, “এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ মানবিক উদ্যোগ”-তবে বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপপ্রয়াস চলছে।
গত বছরের ১৮ আগস্ট সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৯৩ জনের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে তখন সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় সেনাবাহিনী এবার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
আইএসপিআর এই তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি কিছু “স্বার্থান্বেষী মহলের বিভ্রান্তিমূলক প্রচার” সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছে, এসব প্রচারণা “সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টা”। সেনাবাহিনী পুনরায় তাদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এই তালিকা প্রকাশ শুধু তথ্যগত নয়, রাজনৈতিকভাবে একটি বড় বার্তা। এটি দেখায় যে সেনাবাহিনী তাদের ভূমিকা স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে চায় এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে সচেষ্ট। গণ-অভ্যুত্থানের সময় দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী হিসেবে এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বর্তমান প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য হিসেবেও প্রতিভাত হচ্ছে।

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন এখানে


এ জাতীয় আরো খবর