মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

আদালতের নির্দেশে অবশেষে ফাঁকি দেয়া করের টাকা দিলেন ড. ইউনূস

  • সকালের আলো প্রতিবেদক:
  • ২০২৩-০৭-২৫ ১২:৪৪:৩২

আজ (মঙ্গলবার) একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ১২ বছর আগে ফাঁকি দেয়া করের টাকার অবশিষ্ট প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা আদালতের নির্দেশে সরকারকে দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কে এই অর্থ পরিশোধ করেছেন তিনি।   
গণমাধ্যমে পাঠানে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। মোট ১৫ কোটি ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা করের মধ্যে আগেই ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন ড. ইউনূস।
এর আগে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা বাবদ ১২ কোটি টাকা দানকর ড. ইউনূসকে পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এনবিআরের আরোপিত দানকর বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) ড. ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বেঞ্চ। ফলে এনবিআর আরোপিত দানকর দিতেই হবে বলে জানায় হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূসকে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ফাঁকি দেওয়া কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যে ১২ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধের রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট, তা স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে গত ২২শে জুন আবেদন করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে গত ৩১শে মে, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ড. ইউনূসকে বকেয়া কর পরিশোধের রায় দিয়েছিলেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯০ সালের দানকর আইন অনুযায়ী ২০১১-২০১২ করবর্ষে মোট ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নোটিশ পাঠায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইভাবে, ২০১২-২০১৩ করবর্ষে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দানকর দাবি করে আরেকটি নোটিশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া, ২০১৩-২০১৪ করবর্ষে ৭ কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা কর দাবি করে নোটিশ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে ১৫ কোটি ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা চেয়ে তাকে চিঠি দেয় এনবিআর। এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ডক্টর ইউনূস। ২০১৪ সালে তার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে হাইকোর্টে মামলা করেন। সেখানেও হেরে যান তিনি। সবশেষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন।
এনবিআর এর দাবি করা ১৫ কোটির টাকার মধ্যে আপিল দায়েরের শর্তানুযায়ী তিনি ইতিমধ্যে তিন কোটি টাকা দিয়েছেন। 
তবে, ড. ইউনূস এর দাবি, আইন অনুযায়ী দানের বিপরীতে এনবিআর এই কর দাবি করতে পারে না।
তার এই মামলার শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালে খারিজ করে রায় দেন কর আপিল ট্রাইব্যুনাল। এরপর হাইকোর্টে তিনি পৃথক তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন।
হাইকোর্ট তার মামলার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দানকর দাবির নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে ২০১৫ সালে রুল জারি করেন।
সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩১শে মে বকেয়া কর পরিশোধের রায় ঘোষণা করেন আদালত।


এ জাতীয় আরো খবর