Personal data policy

We use cookies to improve the functionality of our sites, to be able to perfect content and desire ads to you and for us to be able to ensure that the services work nicely : About our cookies and personal information

সর্বশেষ সংবাদ সড়ক ও নিরাপদ জীবন                  গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি                 নিরাপদ সড়ক জোরদারকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা                 নিরাপদ সড়ক জোরদারকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা                 টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে সোনার মানুষ চাই                  “হাসি ফুটুক সবার মুখে-বিশ্ববাসী থাকবে সুখে”                 কেন এই অবক্ষয়                 এবার শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচার চাই                 আমাদের শংকা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্যাশলেস সোসাইটি                 ১৫ আগস্ট: শোকাহত হৃদয়ের ভাব                 জীবনের বিনিয়োগ                 তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ‘ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন                 আমার বাবা আমার আদর্শ                 যাহা বাহান্ন তাহাই তেপ্পান্ন                 সেকাল-একালের ফরিদপুর এবং জাতির স্থপতি শেখ মুজিব                 বিশেষ সুন্দরীদের বিরুদ্ধে অভিযান দুর্নীতি বিরোধী জনরোষ এবং রাজনৈতিক প্রশাসনের দাবী প্রতিহত করার কৌশল নয়তো?                 ‘মা’ স্নেহ ও ভালবাসার মহাসাগর                 জাতিসংঘ এবং বিশ্ব ব্যাংক অমানবিক সংস্থায় পরিণত হয়েছে                 শোকের মাসে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আহবান                 শোকের মাস আগস্টঃগভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি                  করোনামুক্ত দেশ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই                 করোনায় ঘর ভাড়া পাব কই?                 প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চলের কোভিড-১৯ ক্রাইসিস এখন চায়না এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনে রূপ নিয়েছে                 আমার বোঝার ক্ষমতা                 মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা                 আমার বাবা আমার আদর্শ                 জাতির মুক্তিসনদ ছয় দফা                 জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়ের বাজেট                  তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় ‘ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান’ নয় ‘বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস’ আজ                 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ( কালো ছত্রাক) বা মিউকরমাইকোসিস- আতংকিত নয়, সাবধান হোন                

Tuesday, October 26, 2021
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


নিরাপদ সড়ক জোরদারকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা
সকালের আলো প্রতিবেদক :
সময় : 2021-10-08 22:23:52

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোতে হতাহতের সংখ্যা (প্রতি ১ লাখ মানুষে যথাক্রমে ২১.৫ ও ১৯.৫ জন) উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর (১০.৩ জন) তুলনায় অনেক বেশি। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে, সারাবিশ্বের রেজিস্ট্রিকৃত যানবাহনের মাত্র ৪৮ শতাংশের শেয়ার নিয়ে নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোকে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার দায় কাঁধে নিতে হচ্ছে। গত ৪ থেকে ৫ দশক ধরে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে; তথাপি এসব দেশে এখনও সড়ক দুর্ঘটনাকে মৃত্যু, আঘাত ও পঙ্গুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যারা রাস্তায় মারা যান তাদের অর্ধেক হচ্ছেন পথচারী, সাইক্লিস্ট ও মোটরসাইক্লিস্ট– যাদের অভিহিত করা হয়ে থাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারী’ হিসেবে। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এভাবে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।
নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা যেমন ক্রমাগত বাড়ছে, তেমনি দ্রুত গতিতে বাড়ছে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিককালে জাম্বিয়ার অর্থনীতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তাদের জিডিপির ৩ শতাংশ।

অর্থনীতিতে সড়ক দুর্ঘটনার দৃশ্যমান (tangible) ও অদৃশ্যমান (intangible) উভয় ধরনের ক্ষতি রয়েছে। দৃশ্যমান ক্ষতির মধ্যে রয়েছে– যানবাহনের ক্ষয়-ক্ষতি (প্রতিস্থাপন ও মেরামত খরচ), প্রশাসনিক খরচ, চিকিৎসা-ব্যয়, মৃত্যু কিংবা আহত হওয়ার কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়া, বীমা-খরচ ইত্যাদি। অন্যদিকে অদৃশ্যমান ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে রয়েছে– যন্ত্রণা, দুর্দশা, দুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে জিডিপির ক্ষতির পরিমাণ ১.৬ শতাংশ,বাংলাদেশে প্রায় ২ শতাংশ।

 রাস্তায় উন্নত পর্যায়ের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি অনেকগুলো উপাদানের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ট্রাফিক আইন-কানুনের কার্যকরী প্রয়োগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার স্ট্যাটাস রিপোর্টে বাংলাদেশে আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে যা বলছে তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। সংস্থার র্যাংক অনুযায়ী, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শূন্য থেকে নয় স্কেলে ৩ বা ৪ নম্বর অবস্থানে আছে।

পৃথিবীর যেসব দেশে সড়ক নিরাপদ রাখার জন্য কোনো আচরণবিধি বা কোড নেই, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এ ধরনের আচরণবিধি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত দেশেই রয়েছে এবং দেশের প্রতিটা নাগরিক তা যথাযথভাবে মেনেও চলেন। নিরাপদ সড়ক আচরণবিধি হচ্ছে সেই ডকুমেন্ট, যেখানে কোন্ আইনের কোন্ ধারা লঙ্ঘনে কী ধরনের দণ্ড রয়েছে তা উল্লেখ করাসহ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী, ট্রাফিক পুলিশসহ সব ধরনের রাস্তা ব্যবহারকারী কোন্ পরিস্থিতিতে কী ধরনের আচরণ করবে তা বর্ণিত থাকে।

এখানে একটা প্রশ্ন আসতে পারে, আমাদের দেশে এ রকম একটা আচরণবিধি না হয় তৈরি হল, কিন্তু অন্যান্য আইনের মতো সেটাও যে বইয়ের পৃষ্ঠায় আটকে থাকবে না তা কে বলতে পারে? ঠিক তাই। এই আচরণবিধি কীভাবে জনসাধারণের মাঝে প্রচারণার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে, প্রচারণার দায়িত্বে কারা থাকবে, কীভাবে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, গাড়িচালনা শেখার স্কুলগুলোতে কীভাবে বাধ্যতামূলক পাঠ্য করতে হবে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সেখানে সময়ানুগ এবং সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। আচরণবিধি কতখানি আইন আমি জানি না, তবে মানুষকে আইনমুখী করার জন্য এটা হতে পারে অত্যন্ত শক্তিশালী এক হাতিয়ার।
   

গণমাধ্যমের ভূমিকা: গণমাধ্যম গণজাগরণের হাতিয়ার। দেশের  উন্নয়নে   গণমাধ্যম/মিডিয়া/সাংবাদিকদের  ভূমিকা  অনস্বীকার্য।  তেমনি  নিরাপদ  সড়ক  নিশ্চিত  করার  ক্ষেত্রে গণমাধ্যম/মিডিয়া/সাংবাদিকদের ভূমিকাও অন্যতম। প্রতিনিয়ত দেশের সড়কের পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা, নিরাপত্তা ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদন/সংবাদ  প্রকাশের  মাধ্যমে  দেশের  সর্বস্তরের  মানুষদের  অবহিত  করছে  গণমাধ্যমসমূহ।সেই সাথে সড়কের নিরাপত্তায় করণীয়সমূহ ও তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরছে গণমাধ্যম।
 
জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিকালে গণমাধ্যম অগ্রণী ভূমিকায় মুশকিল আসান’ হিসেবে কাজ করেছে। কী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কী রাজনৈতিক অস্থিরতা, কী অন্যান্য আপদকালীন সময়– সর্বদা বাংলাদেশের গণমাধ্যম সেগুলো উত্তরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। তাদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালনের কারণে বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, তা আজ ভীষণভাবে বেগবান।
আর সড়ক দুর্ঘটনা যে এখন আর নিছক দুর্ঘটনা নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মনুষ্যসৃষ্ট এক দুর্যোগে পর্যবসিত হয়েছে– এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে মিডিয়া। কখনও কখনও সড়কে অপূরণীয় ক্ষতি বা অসহনীয় ট্র্যাজিডির প্রেক্ষাপটে আমরা দেখেছি, গণমাধ্যমের তেজস্বী ভূমিকা। মিরেরসরাই ট্র্যাজিডি কিংবা তারেক মাসুদ-মিশুক মনিরের অকালপ্রয়াণের পর জনগণকে তীব্রভাবে আন্দোলিত হতে দেখেছি, মিডিয়ার কল্যাণে।আবার সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী নিহতের ঘটনায় গড়ে ওঠা আন্দোলন দুর্বার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে মিডিয়ার কল্যাণে-যার ফলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্বাবধানে সংসদে পাস হয়েছে।তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিবের হাত হারানো ও নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমের ভূমিকার জন্য মাহামান্য হাইকোর্ট অল্প দিনেই সেই মামলার রায় দিয়েছে। 
সেসব আন্দোলন কিন্তু ব্যর্থতায় গিয়ে শেষ হয়নি। সিদ্ধান্তগ্রহীতাদের বাধ্য করেছে সড়ক নিরাপদ করার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নিতে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ থেকে শুরু করে ঢাকা-মানিকগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ ব্ল্যাক-স্পট দূরীকরণ, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের উন্নয়ন ইত্যাদি সেসব পরিকল্পনারই অংশ। ঢাকা মহানগরীর দুঃসহ যানজট নিরসনকল্পে একের পর এক মাথা তুলছে ফ্লাইওভারসহ যেসব অবকাঠামো, সেখানে মিডিয়ার ভূমিকা অগ্রগণ্য।
কোনো কোনো মিডিয়া হাউজ ইতোমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রাধান্য দিয়ে এ সংক্রান্ত কাভারেজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সড়ক নিরাপদ করার জন্য চলমান বিভিন্ন গবেষণায় অন্যতম তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করে গণমাধ্যম। কারণ দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট সরকারি উপাত্ত প্রকৃত সংখ্যা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। আর সেই দূরত্ব কমিয়ে দেয় গণমাধ্যম।
পরিশেষে আশাবাদ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ একদিন আমরা একটা নিরাপদ সড়ক আচরণবিধি হাতে পাব, যা সড়কে অযাচিত দুর্ঘটনা বা বিপত্তি থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টায় অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি উন্নয়নের মূলধারার কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মপরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter