সর্বশেষ সংবাদ জাতিসংঘ এবং বিশ্ব ব্যাংক অমানবিক সংস্থায় পরিণত হয়েছে                 শোকের মাসে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আহবান                 শোকের মাস আগস্টঃগভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি                  করোনামুক্ত দেশ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই                 করোনায় ঘর ভাড়া পাব কই?                 প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চলের কোভিড-১৯ ক্রাইসিস এখন চায়না এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনে রূপ নিয়েছে                 আমার বোঝার ক্ষমতা                 মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা                 আমার বাবা আমার আদর্শ                 জাতির মুক্তিসনদ ছয় দফা                 জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়ের বাজেট                  তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় ‘ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান’ নয় ‘বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস’ আজ                 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ( কালো ছত্রাক) বা মিউকরমাইকোসিস- আতংকিত নয়, সাবধান হোন                 আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নিগৃহীত হলো বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ে - বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝর বইছে                 ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা;প্রধান ভাইয়ের শূণ্যতা অনুভব করি                 করোনায় বিশ্ব হারিয়েছে ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯০১ টি মূল্যবান প্রাণ                  সাদকাতুল ফিতরের শিক্ষাও তাৎপর্য                  ইসলাম ও দ্বীন হলো সর্বজনীন জীবন ব্যবস্থার নাম :মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী                 গণতন্ত্র মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা                  এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ২ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন, মৃত্যু ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৩ জনের                 মহান মে দিবস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা                 "নিভছে না দিল্লির জ্বালানগর ও নিগমবোধ শ্মশানের চিতার আগুন : ফুরসত নেই জাদিদ কবরস্থানের গোর খোদকদেরও" আমরা কি প্রস্তুত?                 মানবিক জীবনে ফিতরা বা ফিতরের যাকাতের গুরুত্ব                 বিশ্বে গত ৭ দিনের করোনা চিত্র                  শিক্ষকের ঋণ                 রমযান মাসের বৈশিষ্ঠ্য ও ফযীলত                 রমজান মাসের ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয়                 ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস                 স্মৃতিচারণঃকবিরাজ হোসেন মোল্লা ছিলেন সদা হাস্যজ্জল মানবতার মানুষ                 যাকাতের গুরুত্ব, ফযীলত ও ব্যয়ের খাতসমূহ                

Thursday, August 5, 2021
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চলের কোভিড-১৯ ক্রাইসিস এখন চায়না এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনে রূপ নিয়েছে
মোঃ শফিকুল আলম :
সময় : 2021-07-21 19:54:23


ক্যানবেরা, পাপুয়া নিউগিনিতে চায়নার ভ্যাকসিন সরবরাহকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চায়নার দাবীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাপুয়া নিউগিনি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জনবহুল দ্বীপরাষ্ট্র। গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর অন্চল সম্পর্কিত মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী Zed Seselja সিএনএন এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা সব সময় পাপুয়া নিউগিনিকে তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহনে সাহায্য করি। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রভাবিত করিনা।” অস্ট্রেলিয়া মনে করে বেইজিং বরং ভুলভাবে দেখছে। এ মাসের প্রথম দিকে চায়নার সরকার পরিচালিত ট্যাবলয়েড Global Times প্রশান্ত মহাসাগর অন্চলে চায়নার ভ্যাকসিন সূচনা এবং সরবরাহকে ব্যাহত করার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়াকে অভিযুক্ত করে। প্রেস কনফারেন্সে চায়নার মুখপাত্র এতদান্চলে চায়নার ভ্যাকসিন সহায়তা কার্যক্রমকে অস্ট্রেলিয়া ধ্বংসের চেষ্টা করছে মর্মে অভিযোগ উত্থাপন করেন।
প্রশান্ত মহাসাগরের ১৪ টি দ্বীপরাষ্ট্রের ১০ মিলিয়ন জনসংখ্যা রয়েছে। চায়না এবং অস্ট্রেলিয়া এই অন্চলে কৌশলগত কর্তৃত্ব স্থাপনে বছরের পর বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত।
এশিয়া এবং আমেরিকার মাঝখানটায় অবস্থিত দ্বীপসমূহ সামরিক মহরা স্থাপনে বেশ গুরুত্ববহ। চায়না এবং অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রতিরক্ষা স্থাপনা তৈরীর সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে এই দ্বীপসমূহ। প্রশান্ত মহাসাগর দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের সাথে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার কারনেও এই অন্চলে অস্ট্রেলিয়া কোনোক্রমেই চায়নার পদচারনা সহ্য করবেনা।
অপর দিকে, এতদান্চলে চায়নার প্রভাব বিস্তারের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। সে কারনেই চায়না অপরাপর দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ যাদের সাথে টাইপি’র (তাইওয়ানের রাজধানি বা ROC বা  Republic of China) একটা কুটনৈতিক পার্টনারশিপ রয়েছে তাদেরকে টাইপি থেকে সরাতে সদা ব্যস্ত থাকে। এবং তাইওয়ানকে অপরাপর দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চায়না সচেষ্ট থাকে।
এখন পাপুয়া নিউগিনিতে যখন কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়েছে তখন অস্ট্রেলিয়া এবং চায়না উভয় পক্ষ নিজেদেরকে অধিকতর উপকারী বন্ধু হিসেবে প্রমানিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। চায়নার ৩ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন ডোনেশনের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ৬ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন ডোনেশন দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া আরও ১৫ লক্ষ ডোজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বেইজিং বেকায়দায় রয়েছে।
পিএনজি (পাপুয়া নিউগিনি) ২০২০ এ প্যানডেমিকের চরম অবস্থার সম্মুখীন না হলেও এবছর সংক্রমনের হার চরমে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ১৭,০০০ এর ওপর সংক্রমিত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ১৭৯ ছাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারীতে যখন সংক্রমনের হার বাড়তে শুরু করে তখনই চায়না ভ্যাকসিন প্রেরনের ঘোষনা দেয়। যে ভ্যাকসিন চায়না অফার করেছিলো তা’ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন করেনি। গ্লোবাল টাইমস এর ভাষ্য অনুযায়ী কৌশলগতভাবে ট্রাইল ডাটা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে সরবরাহের কথা বলেছিলো।
তথাপি পিএনজি মে মাস পর্যন্ত ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়নি। পিএনজি’র অনুমোদনে দেরী হওয়ার ব্যাপারকে চায়না মনে করে অস্ট্রেলিয়া পিএনজির সিদ্ধান্ত গ্রহন পলিসিকে প্রভাবিত করেছে। চায়নার সরকার নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস এর রিপোর্ট দাবী করে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ এবং চায়নার ভ্যাকসিন এবং এন্টি-ভাইরাস সহযোগিতা কর্মসূচীকে অস্ট্রেলিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যখন অস্ট্রেলিয়া প্যানডেমিকের মধ্যে পিএনজির স্বাস্থ্যব্যবস্থপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক, ফ্রন্টলাইন লজিস্টিক সাপোর্ট অব্যাহতভাবে দিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চল সংক্রান্ত মন্ত্রী জেড বলেন পরামর্শকরা চাইনিজ ভ্যাকসিনের কার্যকরীতা নিয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন বলে তার জানা নাই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অস্ট্রেলিয়া এমনকি প্যানডেমিকের পূর্বেই অনেক দিন ধরে পিএনজিকে স্বাস্থ্যখাতে নানা সাহায্য দিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সাহায্য প্রদান দীর্ঘ দিনের এবং বিস্তৃত। এই বিস্তৃত সাপোর্ট অবশ্য যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এ্যাডালাইড ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক Joanne Wallis বলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ পরামর্শকগন পিএনজিকে বিভিন্ন ভ্যাকসিনের এফিকেসি নিয়ে তথ্যগত পরামর্শ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে অন্যান্য ভ্যাকসিনের মতো চায়নার ভ্যাকসিনের এফিকেসি নিয়ে তুলনামূলক পরামর্শ দেয়ার মধ্যে অবশ্যই দোষের কিছু নেই বা অযৌক্তিক নয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ সংক্রান্ত বা বানিজ্য সংক্রান্ত বিভাগ বা পিএনজি’র কোভিড-১৯ ন্যাশনাল প্যানডেমিক রেসপন্স অফিস অবশ্য সিএনএন এর অনুরোধে সারা দিয়ে এই সংক্রান্ত প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেনি।
মূলত: পিএনজির চাইনিজ ভ্যাকসিন অনুমোদনে দেরী হয়েছে শুধুমাত্র বাস্তবসম্মত সময় বিবেচনায় নিতে গিয়ে। পিএনজি অথরিটি সিনোফার্ম পেতে আগ্রহী ছিলো তবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনের পর। এরই মধ্যে অবশ্য তারা বিকল্প ভ্যাকসিন পেয়ে যায়।
৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্রে মার্চের মধ্যে যখন শত শত সংক্রমিত হচ্ছিলো তখন সাধারনে আতংক ছড়িয়ে যায়। একেতো নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সুতরাং, মার্চে যখন অস্ট্রেলিয়া ৮,০০০ ডোজেস এ্যাস্ট্রাজেনিকা পাঠানোর ঘোষনা দেয় তখন পিএনজি’র বিকল্প চিন্তা করার বা অপেক্ষা করার সময় ছিলোনা। এপ্রিলের মধ্যে পিএনজি গ্লোবাল ভ্যাকসিন এ্যালায়েন্স কোভ্যাক্স থেকে ১৩২,০০০ ডোজেস এ্যাস্ট্রাজেনিকা পেয়ে যায়। মে মাসে অস্ট্রেলিয়া আবার ১০,০০০ ডোজেস পাঠায়। জুনে নিউজিল্যান্ড পাঠায় ১৪৬,০০০ ডোজেস। 
অস্ট্রেলিয়ার এ্যাস্ট্রাজেনিকার বেশ অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে। এখন ৬০ এর নীচে কাউকে এ্যাস্ট্রাজেনিকা দেয়া হবেনা। এই অতিরিক্ত শটস তারা উদারভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহে সরবরাহ করতে আগ্রহী। অস্ট্রেলিয়ার নিকট প্রতিবেশী হিসেবে তাদের দেশের নিরাপত্তার স্বার্থও জড়িত রয়েছে। ৬০ এর নীচে সবার জন্য অস্ট্রেলিয়ার অতিরিক্ত ফাইজার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা রয়েছে।
Jonathan Pryie লয়ী ফাউন্ডেশনের প্যাসিফিক আইল্যান্ড প্রোগ্রামের পরিচালক বলেন যে প্রশান্ত মহাসগরীয় অন্চলের দেশসমূহের জন্য সুখবর যে এ্যাস্ট্রাজেনিকা অস্ট্রেলিয়া তাদের নিজের দেশের সবাইকে দিচ্ছেনা এবং তারা এতদান্চলে বিনামূল্যে উদারভাবে সরবরাহ করছে। ফলে তারা অতি দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিনলাভে সমর্থ্য হচ্ছে।
এমনটি নয় যে এ্যাস্ট্রাজেনিকা অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য উপযুক্ত নয়। যারা ইতোমধ্যে এই ভ্যাকসিন গ্রহন করেছে আমি নিজে তাদের অন্যতম। আমি নিজে ফুললি ভ্যাকসিনেটেড এবং এ্যাস্ট্রাজ্নিকা নিয়েছি। কোনো বিপরীত প্রতিক্রিয়া ছিলোনা।
তবে কুটনৈতিক সমস্যার থেকেও পিএনজি’র ভেতরগত সমস্যার কারনে ৪ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৬০,০০০ লোককে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হয়েছে যেখানে জুনের প্রথমেই ১৩০,০০০ শিশি কোভ্যাক্স সরবরাহ করেছে। এ মাসের মধ্যে পুশ করতে না পারলে মেয়াদোত্তীর্ন হবে। পিএনজিতে অবস্থানকারী নন-প্রোফিট সংগঠন কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল  এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জাস্টিন ম্যাকমোহন বলেন ভ্যাকসিন গ্রহনে অধিকাংশই দ্বিধাগ্রস্ত।
এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিনের এফিকেসীর প্রশ্ন উত্থাপন করে ভ্যাকসিন গ্রহন করছেনা। মায়েরা এমনকি শিশুদের মিজলস ভ্যাকসিন গ্রহনের নির্ধারিত তারিখ মিস করছে এই বলে যে তাদের শিশুদেরও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারে।
ভ্যাকসিনের সরবরাহ থাকার পরও যেখানে তারা ভ্যাকসিন নিচ্ছেনা সেখানের চীনের আরেকটি ভ্যাকসিন তাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা না করায় অস্ট্রেলিয়ার কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?
এতদ সত্বেও অস্ট্রেলিয়া তিমুর এবং অন্যান্য দ্বীপরাষ্ট্রে আরও ১৫০০০০০ ডোজেজ আগামী এক বছরের মধ্যে সরবরাহ করার ঘোষনা করেছে। অর্থাৎ আগামী বছরের মধ্যে এতদাঞ্চলের প্রায় সকল এ্যাডাল্ট পপুলেশন ভ্যাকসিনের আওতায় আনায়নে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী।
সৎ উদ্দেশ্য থেকেই অস্ট্রেলিয়া সেটা চায়। অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএনজির দূরত্ব মাত্র কয়েকশ মাইল। যদিও এখন ভ্রমন রেসট্রিকশন রয়েছে তারপরও পিএনজি নিরাপদ না হলে অস্ট্রেলিয়া নিরাপদে থাকবেনা সেই ধারনা থেকেই এই চাওয়া। পিএনজিকে দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়া নানান বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এমনকি চীনের উপস্থিতির পূর্বেই। বরং চীনের উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়া-পিএনজি সম্পর্ক জটিল করছে।
চায়না যদিও বিশ্বে এখন সবচাইতে বড় ভ্যাকসিন ডোনার; কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চলে তাদের ডোনেশন নামমাত্র।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডোনেশন বরং প্রশান্ত মহাসাগর অন্চলে চায়নার জন্য প্রভাব বিস্তারের একটি সুযোগ করে দিয়েছিলো। চায়না হয়তো সুযোগটি মিস করেছে। সেক্ষেত্রে অনেক স্বল্প অর্থব্যয়ে বরং চায়না এই প্রভাব বলয় তৈরী করতে পারতো। চায়নার ভ্যাকসিন ডোনেশন অনেকটা টোকেনিসটিক।
চায়নার প্রভাব বিস্তার করতে হলে দেখাতে হবে প্রকৃতপক্ষেই তারা এতদান্চলে সাহায্য করতে চায়। অস্ট্রেলিয়া ১৮ মাস ধরে প্রকৃতপক্ষে এই অন্চলের সরকার এবং জনগনের সাথে মিশে জনগনের স্বার্থে এবং একই সাথে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষার্থে সততার সাথে প্রতিবেশীকে সাহায্য করে আসছে।
চায়না পিএনজি, সলোমন দ্বীপপুন্জ, ভানুয়াতু ইত্যাদি দেশে সর্ব মোট ২৭০,০০০ ভ্যাকসিন ডোনেশন দিয়েছে যা’ অস্ট্রেলিয়ার ডোনেশনের অর্ধেকেরও কম। অস্ট্রেলিয়া তার ওপর বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট, ফ্রন্টলাইন সাপোর্টসহ নানান বিষয়ে সহযোগিতা করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরী করে দিতে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
তা’ছাড়া চায়নার প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ফিজিকে ভ্যাকসিন ডোনেশনের ঘোষনা দিয়েছেন; এখনও দেননি। সলোমন দ্বীপপুন্জ এবং ভানুয়াতুর নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক ডোজ চায়নার ভ্যাকসিন গ্রহন করলেও জনগনের মাঝে কোনো তূর্যনিনাদ নেই।
যদিও চায়না আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেনি যে অস্ট্রেলিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রসমূহে চীনের ভ্যাকসিন অনুমোদনে বাঁধ সেধেছে। তারপরও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সিএনএনকে বলেছে এধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে চায়নার বিদেশ মন্ত্রনালয়ের অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ মন্ত্রনালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত।
গত বছর থেকে অস্ট্রেলিয়া এবং চায়নার সম্পর্ক অনেকটা ডিপ ফ্রিজে চলে গেছে। কারন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন প্রকাশ্যে কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের সোর্স খুঁজতে চায়নার ওয়েট মার্কেট এবং ল্যাব অনুসন্ধানের দাবী করেন। এই দাবী উত্থাপনের পর চায়না অস্ট্রেলিয়ার ওপর ভীষণ বিরাগভাজন হয়।
চায়না সিএনএন এ অভিযোগ করেছে যে অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর অন্চলে ভাইরাস মোকাবেলায় এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রমোট করতে সহযোগিতা করা উচিত।
পক্ষান্তরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর অন্চল সংক্রান্ত মন্ত্রী জেড সেসেলজা বলেন অস্ট্রেলিয়া সব সময় নিয়ম অনুসরন করেই গুরুত্বের সাথে প্যাসিফিক অন্চলে কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া এতদান্চলের সকলের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই প্রতিরক্ষাখাতে বিনিয়োগ রেখেছে। একই সাথে অস্ট্রেলিয়ার গনতান্ত্রিক মিত্র শক্তিও চায় এতদান্চলে দ্বীপরাষ্ট্রসমূহে গনতন্ত্র বজায় থাকুক। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে চায়নার সাথে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বলে জেড জানান।
অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চায়নার সাথেও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলে জেড বলেন; কিন্তু সে সম্পর্ক অস্ট্রেলিয়ার কোর ভ্যালুস এর সাথে সামন্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলে জেড সেসেলজা দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। জেড আরও বলেন অস্ট্রেলিয়া তার গনতান্ত্রিক শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অস্ট্রেলিয়া তার সার্বভৌমত্বকে সবার ওপরে রাখে এবং তার ওপরই নির্ভর করবে বানিজ্যিক এবং অন্যান্য সম্পর্ক।
কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক মোহন অবশ্য বলেন ভ্যাকসিন ক্রাইসিসকে রাজনীতিকরন না করে কুটনীতিকরন করলে বরং ভূক্তভোগী দেশসমূহ উপকৃত হবে।
তবে বেইজিং হয়তো অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করতে এবং এই অন্চলে প্রভাব বিস্তারে এখন অধিক হারে অর্থ বিনিয়োগ করবে যা’ এই অন্চলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এই দ্বীপান্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশেরই উপস্থিতি রয়েছে।
যদিও অনেক সময় প্যাসিফিক আইল্যান্ডস রাষ্ট্রসমূহের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়া এবং তাদের মিত্র আমেরিকা পছন্দ করেনা। কারন, যখন প্রভাব সৃষ্টির প্রতিযোগিতা চলে তখন এসমস্ত দেশের রাষ্ট্রনায়কদের এই শক্তিসমূহকে ম্যানেজ করতে অসুবিধা হয়। তারপরও দীর্ঘকাল তারা ম্যানেজ করে আসছে। তবে অবশ্যই তাদের এই ম্যানেজিং কৌশলকে প্রতারনা বা ধোঁকা বলা যাবেনা।

 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter