সর্বশেষ সংবাদ সাদকাতুল ফিতরের শিক্ষাও তাৎপর্য                  ইসলাম ও দ্বীন হলো সর্বজনীন জীবন ব্যবস্থার নাম :মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী                 গণতন্ত্র মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা                  এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ২ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন, মৃত্যু ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৩ জনের                 মহান মে দিবস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা                 "নিভছে না দিল্লির জ্বালানগর ও নিগমবোধ শ্মশানের চিতার আগুন : ফুরসত নেই জাদিদ কবরস্থানের গোর খোদকদেরও" আমরা কি প্রস্তুত?                 মানবিক জীবনে ফিতরা বা ফিতরের যাকাতের গুরুত্ব                 বিশ্বে গত ৭ দিনের করোনা চিত্র                  শিক্ষকের ঋণ                 রমযান মাসের বৈশিষ্ঠ্য ও ফযীলত                 রমজান মাসের ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয়                 ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস                 স্মৃতিচারণঃকবিরাজ হোসেন মোল্লা ছিলেন সদা হাস্যজ্জল মানবতার মানুষ                 যাকাতের গুরুত্ব, ফযীলত ও ব্যয়ের খাতসমূহ                 আল-কুরআন ও বিজ্ঞান                 রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা                 বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ                 মু'মিন ব্যক্তি মিথ্যা বলতে পারে না                 সবারে আমি নমি                 বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারী থেকে বেড়েছে তবে কমেছে মৃত্যু ও সুস্থতার সংখ্যা                  বানী                 এপারের চোখে ওপারের অর্ধশতক যাত্রা                 ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই                 বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে                 দারিদ্রতা ও নিরাপত্তাহীনতাই বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ                 বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে অবিরাম কাজ করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা                 ট্রাফিক পুলিশের মানসম্মত পুলিশ বক্স প্রয়োজন                 মুজিবের চেতনায় নারী অধিকার                 '৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ'                 ফেব্রুয়ারীতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত সামগ্রিকভাবে কমেছে প্রায় ৮২ লাখ                

Tuesday, May 18, 2021
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল :
সময় : 2021-04-14 00:42:28

বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ, চৈত্রের শেষ বৈশাখের শুরু। এই শেষ চৈত্র আর পহেলা বৈশাখ নিয়ে যে উৎসব আয়োজন, তা বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি। বাঙালির নতুন বছরের প্রথম দিন। মোঘল সম্রাট আকবর তার শাসনামলে ফসলের খাজনা তোলার সুবিধার্থে বাংলা বছরের হিসাব শুরু করেন। সেই থেকে বাংলা নববর্ষ বরণ শুরু হয়। পহেলা বৈশাখ ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সকল সম্প্রদায়ের এক মিলনের স্মারক।

 বাঙালি জাতি সারাটা বছর অধীর আগ্রহে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। পহেলা বৈশাখ প্রকৃতির নিয়মে ঘুরে আসে। কিন্তু এ বছর ১৪২৮ সনের বাংলা নববর্ষের দিনটি বাঙালি জাতি উদযাপন করছে এমন এক সময় যখন বিশ্বময় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ মার্চ সরকার স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত  ১৮টি নির্দেশনা প্রদান করে এবং ৫ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে এক সপ্তাহ দেশব্যাপী লকডাউন ছিল। এরপরেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন থেকে সরকার আবারো দেশব্যাপী এক সপ্তাহের জন্যে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। ফলে  এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের চিরাচরিত চেহারাও পাল্টে গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ডিজিটাল মাধ্যমে বর্ষবরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সময় স্বাস্থ্য ঝুকি এড়িয়ে বাড়িতে থেকে পরিবারের  সদস্যদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পালন করা উচিত। উল্লেখ্য যে ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত সূর্যোদয় থেকে রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের প্রভাতী  সংগীতায়োজন করে আসছে ছায়ানট। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছর এবং তৃতীয় বারের মতো এবছর রমনা বটমূলে অনুুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বছর বাংলা নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানাদি নিজ গৃহে সীমিত আকারে পালন ও করোনাভাইরাসে বিপন্ন অসহায় মানুষের সেবায় সামর্থবানদের মনোনিবেশ করা উচিত। প্রত্যেক জাতির  নিজস্ব সংস্কৃতি প্রভাব বিস্তার করে একটা সুস্থ ও সচেতন মানস গঠনের দায়িত্ব নেয়। সংস্কৃতির মধ্যে অবগাহন করেই মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বের স্পষ্ট একটি রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিজের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা যে কোন জাতিকে বড় হওয়ার প্রাথমিক দীক্ষা দেয়। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষ একটি সচেতন প্রতিফলন। মূলত বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে দিয়ে বাঙালি জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। সচেতন জাতির পরিচয় প্রকাশিত হয়, বিচিত্র সাংস্কৃতির রূপের মধ্য দিয়ে। বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির সেই পরিচয়বাহী। নববর্ষ মানুষকে সচেতন করে তার সাংস্কৃতিক চেতনার স্বপন্দনে। জাতীয় জীবনে বর্ষ বরণের প্রথম দিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অর্থ নতুনকে বরণের সাগ্রহ মনোভাব। বাঙালি একটি ভাষাভিত্তিক জাতি। যাদের জন্ম বঙ্গে, মাতৃভাষা বাংলা, মূলত তারাই বাঙালি। এই বাঙালির বড় উৎসব বাংলা নববর্ষ। বিগত বছরের দুঃখ, বেদনা, আনন্দ, উৎসবের স্মৃতিচারণ পরিহার করে নতুন বর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। বৈশাখে উৎসবে মানুষের ঢল নামে। মেলা বসে গ্রামে গ্রামে। নানা ধরনের হাতের তৈরী দ্রব্য ও খাবারের মেলা যেন গ্রামবাংলার মানুষের প্রতিচ্ছবি। তাদের জীবন যেন খন্ড খন্ড হয়ে ধরা পড়ে তাদের হাতের কারু কাজে। মাটির পুতুল, পাটের শিখা, তালপাতার পাখা, সোলার পাখি, বাঁশের বাঁশি, ঝিনুকের ঝাড়, পুঁতিমালা, কত না অদ্ভুত সব জিনিসের সমাবেশ ঘটে সে মেলায়। চোখে না দেখলে যেন বিশ্বাসই হয় না বাংলার মানুষের জীবন এত সমৃদ্ধশালী। বাংলার মানুষ গরীব হতে পারে, দারিদ্র্যের নিস্পেষণে তারা জর্জরিত হতে পারে কিন্তু এসব দুঃখ কষ্ট তাদের জীবনকে আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। নববর্ষ বছরটির জন্যে আশার বাণী বহন করে নিয়ে আসে। তাই নববর্ষ আমাদের প্রাণে জাগায় আশার আলো ও উদ্দীপনা।
এ জন্য আমাদের কাছে পহেলা বৈশাখ, পারসিকদের কাছে নওরোজ এবং ইংরেজদের কাছে ঐধঢ়ঢ়ু ঘবি ণবধৎ বিশেষ আনন্দময় দিবস। বাঙালি জীবনে যেমন ছিল পূণ্যাহ অনুষ্ঠান তেমনি হালখাতা অনুষ্ঠান। জমিদারি প্রথা বাতিলের সাথে পূণ্যাহ অনুষ্ঠান বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু হালখাতা অনুষ্ঠান সগৌরবে বিরাজমান। নানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে উদযাপিত হয় হালখাতা উৎসব। বিগত বছরের ধার-দেনা শোধের পর্ব শুরু হয় এই দিনে। এর মধ্যে শুধু ব্যবসায়িক লেনদেন নয় হৃদয়ের বিনিময়ও ঘটে। ব্যবসায়িক লেনদেনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখে মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যতা বাড়ে। আজকাল পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বিশেষ করে নাগরিক জীবনে। শহরে শহরে মুক্তাঙ্গণে কবিতা পাঠ, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকায় রমনার বটমূলে এই অনুষ্ঠান বিশেষ ব্যাপকতা লাভ করেছে। শুধু নাচ-গানই নয়, বাঙালির বহুকালের অভ্যাস, পান্তা ভাত ও ইলিশ ভাজি খাওয়া এখানে চালু আছে বহু বছর থেকে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্যে এ বছর রমনা বটমূলে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশাখের তথা বাংলা নববর্ষের চেতনা বাঙালির হৃদয়ে অন্তরে মিশে আছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় বাংলা নববর্ষের ব্যবহারিক প্রয়োগ আমাদের জীবনে প্রায় অনুপস্থিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাংলা সন কিংবা বাংলা তারিখের ব্যবহার নেই বললেই চলে। বিদ্যালয়, অফিস, আদালত, ব্যাংক-বীমা, বিদেশ ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ ইত্যাদি কোন পর্যায়েই বাংলা তারিখ ব্যবহৃত হয় না। পৃথিবীর বুকে একমাত্র যে দেশের মানুষ তাদের ভাষা রক্ষার জন্যে আন্দোলন করে জীবন দিয়েছে, যে দেশে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ পালিত হয় জমজমাট পরিবেশে, আনন্দঘন উৎসবে। সে দেশেই বাংলা সন ও বাংলা তারিখ উপেক্ষিত! এই অবস্থায় পহেলা বৈশাখের চেতনা তথা বাঙালির সংস্কৃতি ও বাংলা সন তারিখ আদালতসহ দেশের সর্বত্র চালু করা প্রয়োজন। সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও বাংলা তারিখ ব্যবহার করা অপরিহার্য।


লেখক  :
শিক্ষক, কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক ও সমাজ সেবক,
সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি,

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter