চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের গংগোলপুর গ্রামে হিন্দু দেবোত্তর জমি দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ,ভাংচুর,লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র ৮/১০টি পর্যন্ত বাড়িতে হামলার দাবী করলেও পুলিশ বলছে একটি বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে বুধবার(১৩ নভেম্বর) বিকালের ওই ঘটনায় আহতের খবর পাওয়া যায় নি। প্রশাসন,পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় অন্তত: ২০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকটি বাড়িঘর ও খড়ের পালায়। ককটেল হামলা ও লুটপাট করা হয় ওইসব বাড়িঘরে। ভাংচুর করা হয় ভ্যান,ধানমাড়া মেশিন সহ অনান্য সমাগ্রী।
গোমস্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশাত আনজুম অনন্যা বলেন, ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাড়িঘরেও আগুনে তেমন ক্ষতি হয় নি। এ ব্যাপারে পুলিশকে মামলা করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই জমি নিয়ে আগে তেন কিছু শোনা না গেলেও বুধবারই প্রথম দ্বন্দের কথা জানা যায় বলেও জানান ইউএনও। এ ব্যাপারে তিনি কোন লিখিত অভিযোগ পান নি বলেও জানান।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) খাইরুল বাশার বলেন, ৪৪২ বিঘা দেবোত্তর ওই জমির মহান্ত গোমস্তাপুরের রহনপুরের ক্ষীতিশ আচার্য্য। তিনি জমি লিজ দিয়েছেন আলাউদ্দিন নামের এক ব্যাক্তিকে। আলাউদ্দিন আবার সাবলিজ দিয়েছেন কয়েকজনকে । ওসি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা ওই জমি চাষ করে। বুধবার মূলত বাহাদুর নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক বাক্তির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করে বলেন, পেট্রোল বোমা ব্যবহার হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার রাতে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এক পক্ষের একটি অভিযোগ আগেই পাওয়া গেছে। এখন বিবাদমান দু’পক্ষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি করে তিনটি মামলা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীণ।
সং¤িøস্ট ইউপি চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, বিগত সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ওই সম্পত্তি দখল নিয়ে দ্বন্দের সূত্রপাত। এরপর থেকেই গোমস্তাপুরের নদিয়াড়ী ও নাচোলের বেলডাঙ্গা গ্রামের লোকজন গংগোলপুরে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। অবশ্য দু’পক্ষেই এখন বিভিন্ন এলাকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোক রয়েছে। এখন মাঝেমাঝেই ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ ও মারামরি এবং আহত হবার ঘটনা ঘটছে। গংগলোলপুর মৌজায় আশ্রায়ন প্রকল্প, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লী, লীজ দেয়া ভাটা,বাগান ও জমি রয়েছে। সং¤িøস্ট ওয়ার্ড সদস্য আবু বাক্কার বলেন, এ ব্যাপারে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ দরকার। না হলে এর মিটমাট হবে না। সংঘর্ষ বাড়বে। সংশ্লিস্ট গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি বিকালে ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি দেখে গেছেন। দুপক্ষের কয়েকশত লোক বুধবার সংঘর্ষে জড়ায়। তবে তারা মুখোমুখি হয় নি। ককটেল বিস্ফোরণ,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাড়িঘরে আক্রমনের পর তারা সরে যায়। হামলার সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।