চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা কর্মকারপাড়া এলাকায় অবস্থিত চরজোত প্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে স্টিল নির্মিত মন্দিরের প্রধান ফটক। গত শুক্রবার(৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত একই ধরণের এই হামলার ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে মন্দিরের সামনের রাজশাহী-চাঁপাইনববাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করে। অন্তত: আধাঘন্টাব্যাপী অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যান চলাচল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কারা এই হামলায় জড়িত তা শনাক্ত যায় নি। ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ সহ উর্ধতণ পুলিশ কর্মকর্তারা, গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মন্দিরে ছুটে যান। গত বৃহস্পতিবার প্রায় একই সময় প্রথম হামলা ঘটনা আধা কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পে জানানো হয়েছিল বলে জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ঘটনার পর রাত ১২টায় মন্দির গেটে সমবেত হিন্দুদের উদ্দেশ্যে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ বলেন, ৭/৮ জন দূস্কৃতিকারী দু’দিন যাবৎ এই হামলা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সামালোচনা করে তাদের কঠোর অবস্থান নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী দেন। হিন্দু অধ্যূষিত ওই এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে হিন্দদের বাড়িতেও একই ধরণের হামলার ঘটনার কথাও জানান তিনি। পূর্বেও এ্ই মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সাদারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী বলেন, এটি পরিকল্পিত। ধর্মসভা চলাকালীন এমন হামলা বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে হিন্দুরা সার্বক্ষনিক পাহারা দিবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ শনিবার( ৯ অক্টোবর) রাত ১০টায় মন্দিরে হিন্দু সমাবেশের ডাক দেন। সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মন্দির কমিটি সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস বলেন, মাসব্যাপী পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার চলছে মন্দিরে। শুক্রবার রাতে ‘দীপদান’ অনুষ্ঠানের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী ও শিশুরা মন্দিরে ছিলেন। হামলার কিছুক্ষণ আগেই সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মন্দির ত্যাগ করেন। দু’বছর পূর্বে মন্দিরে কীর্ত্তণ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলেও তিনি জানান।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এস.এম জাকারিয়া বলেন, প্রথমে কারা এ হামলায় জড়িত তা শনাক্ত জরুরী। সে কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ শুক্রবারের ঘটনায় দ্রæত সাড়া দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আরও আগে পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। বৃহস্পতিবারের ঘটনা পুলিশকে জানানো হয় নি। তিনি জেলার অন্যতম বৃহৎ এই মন্দিরে সিসিটিভি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। তবে প্রয়োজনে পুলিশ মামলা করে অপরাধী গ্রেপ্তার করবে। মন্দিরে পুলিশী নিরাপত্তার ববস্থা করা হয়েছে বলেও জাানন তিনি।