পা র মি তা চ্যা টা র্জী

  • ঘর
  • ২০২৪-১১-০৮ ২১:৩৪:২১
image

সবাই তাকে বলত কি সুন্দর বাড়ীটা রে তোর,
সে শুধু খুজে পেতনা বাড়ীর সৌন্দর্য,
শুধু ইট কাঠ সিমেন্টের গাঁথনি,
পাথরের মেজে, ঘর ভর্তি ফার্নিচার,
তার মধ্যে কি ভালো লোকে খুজে পায় কে জানে?
ঘরের মানুষ দুটো আছে ঠিকই
তাদের মন গুলো দুই প্রান্তে,
মনের হিসাব কেউ রাখেনা।
বাড়ীটা কি তার?  সত্যি তার?
সে জানেনা।
বিয়ে হয়ে ইস্তক বাড়ীর কর্তার দাম্ভিক কর্কশ কণ্ঠ
আজও তার কানে বাজে,
এটা আমার বাড়ী,
যে মানুষটার হাত ধরে এ বাড়ীতে এসেছিল সেও বলে
রান্নাঘরটাই তার জায়গা সেটাই মন দিয়ে করা ভালো,
তবে তার অস্তিত্ব  কোথায়?
শুধুই রান্নাঘর আর অন্দরমহলের নিভৃতে?
সে তো চায়নি এমন,
সে শুধু চেয়েছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি ঘর,
সে চেয়েছিল একটি গৃহবধূর সন্মান,
খুব বেশী কি তার চাওয়া ছিল?
অবসাদে ভুগতে ভুগতে শরীরে যখন
এক এক করে রোগ এসে বাসা বাঁধতে শুরু করল,
তখন তার ঘরের মানুষ কাছে এসে দাঁড়াল,
তার মনে হল এতোদিন পর বসন্ত এলো নাকি জীবনে?
মনে পড়ল কবিগুরুর ' মুক্তি ' কবিতাটার কথা,
হয়ত অতোটা না কারণ যুগটা যে অনেক এগিয়ে গেছে।
কত যুগ আগে রবীন্দ্রনাথ অনুভব করেছিলেন
অবহেলিত গৃহবধূর অন্তরের কান্নাকে,
আজও সে কান্না নীরবে নিভৃতে বয়ে চলে,
কোথাও  অপমানের কান্না,
কোথাও অত্যাচারের কান্না
কোথাও সবকিছু পরিপূর্ণতার আড়ালে
অবহেলার কান্না,
কান্না থেকেই গেছে।
ধন্য কবি ধন্য তোমার অন্তর্দৃষ্টি
কত সুন্দর করে বলে দিয়েছ
জীবনের শেষ অঙ্গনে
বসন্ত আসে,  আসে মুক্তির আনন্দ।
ঘর খুজে চলা মনগুলো
অবশেষে শান্ত হয়,
বসন্তের বৃষ্টিলেখায়।।