দূর্গার আগমনে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্নমত

  • জুবায়ের ইসলাম চৌধুরী:
  • ২০২৪-১০-০৬ ২৩:৪৬:৫৮
image

আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজা উদযাপন এবং দূর্গা দেবীর আগমন উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরীর কাজে নিয়োজিতরা। মন্দির এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষে শেষ মূহুর্তে চলছে আলোক সজ্জার মহা কর্মযজ্ঞ।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৯ ই অক্টোবর থেকে  শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গা পূজা। বরিশাল মহানগরীতে ৪৫ টি এবং জেলায় ৫০০ টি মন্দিরে এ বছর শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ বিষয় রুপালী চক্রবর্তী, অসীম কুমার দাস, নয়ন চন্দ্র শীল সুমন, বিক্রম চন্দ্র দাস, স্বরজ কুমার সাহা বলেন, এটা সম্প্রতির বাংলাদেশ এখানে যারা বসবাস করে সবাই বাঙ্গালী ও বাংলাদেশী। সুতরাং একই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু প্রতি বছর পূজা আসলেই দেখা যায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের মাঝে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যা মোটেই কাম্য নয়। সকল ধর্মের মানুষ আমাদের সহায়তা করে সুতরাং এতো নিরাপত্তার দরকার নাই। আর এতো নিরাপত্তা নিয়েই যাদি পূজার আয়োজন করতে হয় তাহলে সেই পূজা উদযাপনের কোন মানে নাই। 
মন্দির কমিটির অবহেলা নিয়ে তারা আরও বলেন,,পূজার টাকা কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। মন্দিরে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ বরাদ্দ আসে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য ৫ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করে শুধু আলোক সজ্জা করা কমিটির অজ্ঞতার পরিচয়। শুধু তাই নয় মন্দির পাহারায় সেচ্ছাসেবক ও নিজস্ব পাহারাদার নিয়োজিত না করাও কমিটির অবহেলা বলেই আমরা মনে করি।  
এ বিষয় মিঠুন চন্দ্র শীল ও সাংবাদিক অপূর্ব বাড়ৈ বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তবে মাথায় রাখতে হবে সেই ধর্ম পালন করতে গিয়ে যেন অন্য ধর্মের মানুষের কোন ক্ষতি না হয়। পূজায় অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি হয় যেমন মাইক বা সাউন্ড বক্স বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আযান ও নামাজের সময় গানবাজনা বন্ধ রাখার পাশাপাশি গভীর রাতে উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজানো উচিত নয় কারণ এলাকায় অসুস্থ মানুষ থাকতে পারে। সবাইকে শারদীয় দূর্গা পূজার অগ্রীম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 
 এ বিষয় শোভন কর্মকার রাজু, সমীর চন্দ্র শীল,অনুপ চ্যাটার্জী, শুভ সাহা, ঝুমা দাস, প্রভাত চন্দ্র দেবনাথ, সঞ্জয় হালদার নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অহেতুক কাউকে দোষারোপ না করে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তাই প্রতিটি মন্দির কমিটির কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা আলোক সজ্জা কম করে পাহারাদার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। 
এ বিষয় বরিশাল জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ শংকর চ্যাটার্জী এবং জগন্নাথ মন্দিরের সহ-সভাপতি ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বোস বিশু বলেন, ধর্ম আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ এক কথা নয়। অনেক সময় পারিবারিক শত্রুতা এবং মন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে কিছু কিছু স্থানে  ঝামেলা রয়েছে। পূজার সময় এই দুষ্ট শক্তি প্রতিমা ভাংচুরের মধ্য দিয়ে একটা সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করে। আসলে দুষ্কৃতকারীরা কোন ধর্মের নয় এরা সমাজের আবর্জনা সবাই মিলে এদের প্রতিহত করুন।