চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যহত

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৯-২৮ ২৩:২৩:২০
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যহত রয়েছে। শনিবার(২৮ সেপ্টেম্বর)  সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের ৫০০ ও আলাতুলি ইউনিয়নের ৫০০ পরিবারের মাঝে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় বলে  জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছমিনা খাতুন  ও নারয়ানপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন।  আরও বিতরণের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ইউএনও। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে ৩৬০,দুর্লভপুর ইউনিয়নে ৪০০ ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে ৫০টি পরিবারের মাঝে  একই বরাদ্দের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় বলে  জানিয়েছেন  শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ও পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। এই বিতরণ অব্যহত থাকবে। এর আগে গত শুক্রবার দুর্লভপুর ইউনিয়নে ৩০০ পরিবারের মাঝে চাল ও পাঁকা ইউনিয়নে ৫০টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দার পানি কমেছে । বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি  অব্যহত রয়েছে। চলমান বৃষ্টিও কমেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ২৪ ঘন্টায়  গড়ে ১২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে কৃষি বিভাগ।পাউবো সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বিপদসীমা ২২.০৫ মিটার। শনিবার(২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছিল ২০.৯০ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা ১৯ সেমি কমেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অপর প্রধান নদী মহানন্দার বিপদসীমা ২০.৫৫ মিটার। শনিবার সন্ধ্যায় নদীটি প্রবাহিত হচ্ছিল ১৯.০৫ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায়  মহানন্দার পানি ৭ সেমি কমেছে। তবে জেলার অপর নদী গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্ণভবার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ সেমি। এর বিপদসীমা ২১.৫৫ মিটার। শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যায়  নদীটি ১৯.২৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে বন্যায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, কৃষি বিভাগ জেলায় বন্যায় যে ১ হাজার ৮৮৯ হেক্টর জমির ফসল ও ৬ হাজার ৮১০জন কৃষকের ক্ষতির হিসাব করেছে তার তুলনায় ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমান ও কৃষকের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। সদরের নারায়নপুর ইউনিয়নের স্থানীয় সূত্রও এমন দাবি করেছে। সদর ইউএনও বলেন,নারায়নপুর ই্উনিয়নের  ১ নং ওয়ার্ডে ভাঙ্গণ কবলিত  কমুনিটি ক্লিনিকটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভাঙ্গণে বিলীন হয়েছে ১টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।  ভাঙ্গণ ও বন্যা উভয় দূর্যোগে এই ইউনিয়নে ৫২০টি ও আলাতুলি ইউনিয়নে  ৫৯৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাড়ি সরিয়ে নিয়েও তারা রেহাই পান নি। নারায়নপুর ই্উনিয়নে ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি  রয়েছেন।