চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় পদ্মা বেড়েছে ১১ সেমি, মহানন্দা ১৭ সেমি ও পূণর্ভবা ১৬ সেমি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৯-২৩ ২২:০৮:২৮
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা,মহানন্দা, পূণর্ভবাসহ সকল নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। স্থানীয়রা ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,এতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা নদী তীরবতী ও নীচু জমির মাসকললাই, রোপা আউশ, সবজি,গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, চীনা ইত্যাদি কৃষি ফসল। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন কৃষক।  জেলার প্রখান নদীগুলোর পানি বেড়ে পদ্মার পানি মহানন্দায় (ব্যাক প্রেসার বা উল্টো শ্রোত) ও মহানন্দার পানি পূণর্ভবায় প্রবেশ করছে। যদিও মহানন্দা পদ্মার চেয়ে উঁচু। সাধারনত: মহান্দার পানি পদ্মায় পতিত হয়।
পাউবো সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বিপদসীমা ২২.০৫ মিটার। সোমবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছিল ২১.১৮ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে ১১ সেমি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অপর প্রধান নদী মহানন্দার বিপদসীমা ২০.৫৫ মিটার। সোমবার সন্ধ্যায় নদীটি প্রবাহিত হচ্ছিল ১৮.৯৭ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায়  মহানন্দার পানি বেড়েছে ১৭ সেমি। জেলার অপর নদী গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্ণভবা নদীর বিপদসীমা ২১.৫৫ মিটার। সোমবার সন্ধ্যায়  নদীটি ১৮.৮৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘন্টায় এই নদীর পানি বেড়েছে ১৬ সেমি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব বলেন, বন্যার কোন পূর্বাভাস এখনও নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। ভাঙ্গন সম্পর্কে তিনি বলেন, পানি বাড়ার সময়ও কখনও নদী কিছুটা ভাঙ্গে। তবে বেশি ভাঙ্গে পানি কমার সময়। তিনি আরও বলেন, এখনও সকল নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক সময় বিপদসীমা পার হলেও বন্যা হয় না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ৩৫৪ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১২ হেক্টরই মাসকলাই। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা। এরপর সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলা রয়েছে আক্রান্তের তালিকায়। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন কৃষক। শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, বছরের এমন সময় নদীর পানি বাড়ে। তবে প্রতিবছরই যে বাড়ে এমন নয়। ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, এই পানি বৃদ্ধি সাধারণত: ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি হয়। আম্বিন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও এমন বৃদ্ধি সাধারণত: ঘটে না।  বয়স্করা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও উজানে ভারতে ভারী ও অব্যহত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।