আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে উপস্থাপিত একটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।
বিধানসভায় তোলা অপরাজিতা নারী ও শিশু বিল (পশ্চিমবঙ্গ ফৌজদারি আইন ও সংশোধন)-২০২৪ শিরোনামের বিলটিতে সমর্থন দিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলোও। এই বিলে ধর্ষণ ও গণধর্ষণে দোষী সাব্যস্তদের বিরুদ্ধে প্যারোল ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে আইনে সংশোধন ও নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, নারী ও শিশু বিলটি বিধানসভায় উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। পরে বিলটি নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আলোচনায় অংশ নেন।
বিধানসভায় অপরাজিতা বিল প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, এই বিল একটা ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের লজ্জা। উনি মেয়েদের রক্ষা করতে পারেননি। এসময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও চান মমতা ব্যানার্জী।

বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে পাস হওয়া বিলটি এখন অনুমোদনের জন্য রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে পাঠানো হবে। বিলটিতে তার অনুমোদন দেওয়া হলে সেটি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত দিলে তা আইনে পরিণত হবে।
গত ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মৌমিতা দেবনাথ। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল।