ভয়াবহ হয়ে উঠছে দেশের পূবাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৮-২৩ ১৯:১৩:২০
image

ভয়াবহ হয়ে উঠছে দেশের পূবাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি।উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের ১৩ টি জেলা বন্যায় বিপর্যস্ত। বেশি খারাপ অবস্থা ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে। সরকারি ভাবে বন্যায় এখনো পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে। এদিকে, বন্যা সতর্কীকরন ও পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবার সম্ভাবনা নেই। 
ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তির্ণ এলাকা। প্রবল পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই।
পানির প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের হালদা নদীর নাজিরহাট এলাকার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নে। এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি হাটহাজারী উপজেলা উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী, কর্ণফুলীর অধিকাংশ এলাকা। এসব ইউনিয়নে প্রায় আড়ইি লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির স্রোতে নিখোঁজ রয়েছে তিনজন। 
অতি বৃষ্টি ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ভেঙ্গে গেছে কুমিল্লার গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া দিয়ে বাঁধটি ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু রাত পৌনে ১২টার দিকে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার জানান, বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার শংকায় সন্ধ্যা থেকেই লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার প্রায় ৯৫ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। পানিবন্দিদের উদ্ধারে কাজ করছে  সেনা, নৌ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। 
নোয়াখালীর বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এখানে ৯টি উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে রয়েছে। দলে দলে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। 
হবিগঞ্জের ৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে । শহরতলীর জালালাবাদ গ্রামের পাশে খোয়াই নদীর বাঁধের ভাঙ্গন দিয়ে প্রবল বেগে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ক্রমান্বয়ে ভাঙ্গনটিও বড় হচ্ছে। বানের পানিতে রিচি, জালালাবাদ, ছোট বহুলা, সুলতান মাহমুদপুর, নোয়াগাঁওসহ আশপাশের গ্রামগুলোর বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। 
বৃষ্টিপাত না হওয়ার নদীর পানি কিছুটা কমলেও  মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় খাগড়াছড়ির বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নিচু এলাকা হওয়ার কারনে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের বেশির ভাগ এখনো পানিবন্দি। বন্যার কারণে জেলায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।