চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের সার্বিক পরি্িস্থতিতে গত প্রায় এক মাসে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবঞ্জের সোনামসজিদ পথে কমে গেছে আমদানী-রপ্তানী। এজন্য শংকায় রয়েছেন দু’দেশের সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ীরা। দ্রæত দেশের বিভিন্ন সেক্টরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা চান ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রæত স্থির ব্যবসায়ীক পরিবেশ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন। নচেৎ দেশের আমদানী ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়বে বলেই তাদের ধারণা। বেড়ে যাবে বিভিন্ন পণ্যমূল্য। বন্দর সূত্র জানায়, সাধারনত: বন্দরে নিয়মিত গড়ে ৪ শতাধিক আমদানী পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও তা চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে সং¤িøস্ট সকলের চেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। বন্দরটি বিশেষ করে পাথর, পেঁয়াজ সহ কাঁচামাল,বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী, মাছ,পশু ও পোল্ট্রি ফিড আমদানীতে ব্যবহৃত হয়। রপ্তানী হয় প্লাষ্টিক সামগ্রী,পাটজাত পণ্য,গার্মেন্টস পণ্য ইত্যাদি।
শনিবার (১৭ আগষ্ট) পর্যন্ত চলতি আগষ্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনের মধ্যে বন্দর চালু ছিল ১২ দিন। বন্ধ ছিল ৫ দিন। এর মধ্যে শুক্রবার বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল ৩ দিন,ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১ দিন ও অনর্ধিারিত (সরকার পতনের পরের দিন ৬ আগষ্ট) বন্ধ ১ দিন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ সময় বন্দরে প্রবেশ করেছে ২ হাজার ১৩৪টি টি আমদানী পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক। এর মধ্যে রয়েছে পাথর ১ হাজার ৮৫ ট্রাক,পেঁয়াজ ৪০৩ ট্রাকে প্রায় ১১ হাজার ৩৮০ টন, কাঁচামরিচ ১২ ট্রাকে প্রায় ৬৩ টন। এছাড়া প্রবেশ করছে মসুর ডাল, শুকনো মাছ ও মরিচ, মসলাসহ বিভিন্ন পন্য। একই সময় রপ্তানী হয়েছে ৭৮ ট্রাক বাংলাদেশী পণ্য।
সোনামসজিদ আমদানী রপ্তানীকারক গ্রæপ সভাপতি কাজী মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকারের পতনের পর ব্যবসার অবস্থা ভাল নয়। বন্দরে রাজষ¦ আয় প্রায় এক চতূর্থাংশে নেমে এেেসছে। ভারতীয় রপ্তানী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন রকম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে,আলোচনা করে,আশ^াস দিয়ে নিয়মিত গাড়ি ঢোকানো হচ্ছে। দেশে দ্রæত স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত না হলে সংকট ঘনীভূত হবে।
সভাপতি আরও বলেন, দেশে বছরের এ সময় পুরোদমে নির্মাণ কাজ চলে। এখন কনস্ট্রাকশনের মৌসুম। প্রয়োজন হয় পাথরের। অথচ পাথর আমদানী এখন হ্রাস পেয়েছে। যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করবে। বেকার হবেন অনেকেই। ফেইসবুক সহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যর দাম বেঁধে দেয়া সংক্রন্ত গুজবে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব মূল্য নির্ধারণ সরকারি নয় বললেও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি হচ্ছে। পেঁয়াজের ৭০ টাকা দামের যে খবর রটেছে তা ভবিষ্যতে দাম আরও বৃদ্ধিই করবে। পোল্ট্রি ফিড আমদানী বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে বাড়তে পারে মুরগি,মাছ ও গবাদিপশুর খাবারের দাম। ফলে পণ্যগুলোর দাম বাড়বে ও উৎপাদন কমবে। তিনি নানারকম ফেইসবুক গুজব বন্ধ করার প্রতি জোর দেন। ব্যাংকিং খাতেরও দ্রæত স্থিতিশীরতা দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর স্থবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, সরকার পরিবর্তণের ধাক্কায় ব্যবসায়ীদের মাঝে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। এই অনশ্চিয়তা দূর করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাই মিলে চেষ্টা করা হচ্ছে।বন্দর অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান বলেন, বন্দর পরিবশে সুষ্ঠু রয়েছে। সরকার পরিবর্তনজনিত কোন অপ্রীতিকর ঘটনাই বন্দরে ঘটে নি। তিনি আশা করেন,দেশের পরিস্থিতি উন্নতির সাথে সাথে বন্দরে ব্যবসারও উন্নতি হবে।