বেশ গরম পড়েছে। মাথার ওপর সূর্যটা যেন গরম কড়াই থেকে তাপ ঢেলে দিচ্ছে। রোববার। নিতান্ত অপরিহার্য না হলে এই আগুনে কেউ বাড়ির বাইরে বেরোয় না। প্রতীকের আজ স্কুল নেই। কুলার চালিয়ে শুয়ে শুয়ে মায়ের মোবাইল খুলে দেখে দেখে ছবি আঁকছিল। বাবার দোকান আছে। কত দিন বাবাকে বলেছিল একটা এসি কিনে আনতে। বাবা আনছেই না। স্কুলে শান্তু রোজ রোজ ওদের বাড়ির এসি নিয়ে গল্প শোনাবে। প্রতীক আর বন্ধু ভিকি, অভি, রাহুলরা শুধু নীরব শ্রোতা। ভাল্লাগেনা।
হঠাৎ টং টং করে বেল বাজিয়ে আইসক্রিম আঙ্কল হেঁকে হেঁকে আসছেন - আইসক্রিম! আইসক্রিম!
প্রতীক ক্যানভাস কাগজ পেন্সিল আর ইরেইজার এক পাশে রেখে ড্রয়ার থেকে পঞ্চাশ টাকা বের করে এক দৌড়ে গেটের বাইরে।
আহা রে, আইসক্রিম আঙ্কল ঘেমে নেয়ে একসা। গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালে প্রতীক জিজ্ঞেস করে - আঙ্কেল, তোমার গরম লাগে না?
মুখে কষ্টের হাসি। লাগে ত বাবা। উপায় নেই যে। সংসার চালাতে আমাদের আগুনে ঝাঁপাতে হয় রোজ রোজ। পেটের আগুন এই গরমের চাইতেও ভয়ঙ্কর।
- আমরা গরমে আইসক্রিম খাই। কই, তোমাকে তো কখনো আইসক্রিম খেতে দেখিনি!
- কীকরে খাই? মালিক দাম কেটে রাখবে না?
- তাই? আমাকে দুটো দাও তো প়ঁচিশ টাকা দামের।
- কেউ বেড়াতে এসেছে বুঝি? তাই আজ একটার বদলে দুটো?
- নাঃ! একটা আমি খাবো অন্যটা তুমি।
- না না, এ কী কথা! তুমি এতটুকু ছেলে। তুমি আমাকে কেন খাওয়াবে? বরং আমারই তোমাকে খাওয়ানো উচিত ছিল। তুমি হলে গিয়ে আমার ছেলের বয়েসি। আমি খেতে পারবো না।
- ছেলের বয়েসি বললে না? তোমার ছেলে কিছু খেতে দিলে বুঝি ফিরিয়ে দাও? তোমাকে খেতেই হবে। এই নাও, ধরো।
আইসক্রিম আঙ্কল বোকার মতো প্রতীকের দিকে চেয়ে থাকে।
আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত