দাগনভূঞায় কৃষকের প্রিয় নাম মারুফ

  • ইমাম হোসেন খাঁন :
  • ২০২৪-০৭-০২ ২৩:০১:৪৪
image

দীর্ঘ আট বছর হাই স্কুলে শিক্ষকতা করে ২০০৮ সালে কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করে আবদুল্লাহ আল মারুফ। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী হিসাবে কৃষকদের সাথে কাজ করেন। বর্তমানে ফেনী জেলা দাগনভূঞা উপজেলা পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়ানপুর ব্লকে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি ঐ ব্লকের দায়িত্বে আছেন। আধুনিক জাত সহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ঘটিয়ে এই ব্লকে চাষাবাদে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। ব্লকের সকল কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীর এবং তাদের পরিবারের কাছে মারুফ ভাই একটি জনপ্রিয় নাম ও ব্যক্তি।
এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালে ইঁদুর নিধন অভিযানে অঞ্চল পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন সহ বিভিন্ন সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেন।
জগতপুর গ্রামের চাষী বালাই চন্দ্র নাথ  ও নুরুল আমিন বলেন, মারুফ ভাই আমাদের মত কৃষকদের শিখিয়েছেন সবজি ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে না করে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করে পোঁকা মাকড় মারা, ধানের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে জমিতে ডাল পুঁতে পাখিদের বসার ব্যবস্থা করা। যাতে পাখি সেখানে বসে ক্ষেতের পোঁকা মাকড় খেতে পারে। তারপর রাতের বেলা আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পোঁকা-মাকড় দমন পদ্ধতি শিখিয়েছেন, যা আমরা ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছি।
নয়ানপুর গ্রামের আইডিয়াল ডেইরী ফার্মের মালিক জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত আকবর হোসেন বলেন, আমরা ফার্মের গরু  মূলমূত্র/ গোবর আমি যেখানে সেখানে ফেলে দিতাম এখন আর ফেলতে হয় না। মারুফ ভাইয়ের পরামর্শে আমি গোবরের জন্য ঘর তৈরী করে সেখানে গোবর দিয়ে কম্পোষ্ট তৈরী করতেছি এবং আমার এলাকার চাষীদের নিকট বিক্রি করি। কয়েক বছর আগও ব্লকের কৃষকরা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল  ফলাতেন কিন্তু মারুফ ভাই শিখিয়েছেন মাটির প্রাণ জৈবসার তৈরী ও ব্যবহার।
উপসহকারী কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের জনগনের জন্য প্রধান উপজীবিকা হলো কৃষি এসব দেশের আয়ের প্রদান উৎস। জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় উপাদান শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর বেশীর ভাগই কৃষি থেকে আসে। কৃষি ব্যতীত মানুষের জীবন ধারন অসম্ভব। কৃষির উন্নয়নের উপর বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। তাই কৃষিকে ভালোবেসে ফেলেছি এবং আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালনে চেষ্টা করি। যার বিনিময়ে জনগনের ট্যাক্সের টাকা থেকে পাচ্ছি মালিক বেতন ও কৃষক সহ সকল শ্রেণীর লোকজন এবং তাদের পরিবার থেকে পাচ্ছি আদর, স্নেহ ও সম্মান। এতেই আমি যথেষ্ট খুশি ও সুখী।
পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসেম হেলাল বলেন, মারুফ ভাই আমাদের সকলের প্রিয় মানুষ এবং আমরা সকলে তাকে পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রায় সময় তিনি বিভিন্ন বাড়ীতে গিয়ে কৃষক ও কৃষানীদের নিয়ে কৃষকদল গঠন করেন এবং উঠান বৈঠক করে সেখানে মৌসুম ভিত্তিক চাষাবাদ সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করেন।
পূর্বচন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রায়হান বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে মারুফ ভাই এক অনন্ত দৃষ্টান্ত । আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁর ব্লকে কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত থকার জন্য চেষ্টা করি। সরকারী ছুটির দিনে ও কৃষকদের ডাকে সাড়া প্রদান করেন। তাঁর বিভিন্ন কর্মকান্ডের সন্তুষ্টি হইয়া আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাষীদের জন্য উইভার মেশিন, স্প্রে মেশিন বিতরণ ব্যবস্থা করি। আমার ইউনিয়ন কৃষকদের পরিবারে ফিরে এসেছে সুখ-সমৃদ্ধি। বিশেষ করে মারুফের ব্লকে কৃষি বিপ্লব ঘটেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, “মারুফ” একজন দক্ষ ও পরিশ্রমী ও বহুমূখী প্রতিভাবান উপ-সহকারী কৃষি অফিসার। তার কঠোর প্ররিশ্রম ও যোগ্য নেতৃত্বে নয়ানপুর ব্লকে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর মধ্যে সবজি সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ফসলের জমিতে পার্চিং আলোক ফাঁদ কৃষিকাজে বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। তাঁর কৃষিকাজে অবদানের স্বীকৃতি জন্য ডিপার্টমেন্ট অনেক কৃষি পুরষ্কারের পেয়েছেন।  ইউনিয়নের প্রতাপপুর, দরাপপুর, জগতপুর, নয়ানপুর গ্রাম গুলো নিয়ে নয়ানপুর ব্লক উক্ত ব্লকের জনগন কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং চাষীরা যথেষ্ট পরিমাপে সবজি চাষ করে। ইচ্ছা-অনিচ্ছা, জানা-অজানা ইচ্ছামতে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করত। এখন আর আগের মত স্প্রে করে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিবেদিতা চাকমা বলেন, আবদুল্লাহ আল মারুফ একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ অফিসার। তার ব্লকে কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আমি আশা করি কৃষি সম্প্রসারণে তিনি আরও অবদান রাখবেন।